জুতা খুললেও ব্লু মসজিদে প্রার্থনা করেননি পোপ লিও

ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও তাঁর চার দিনের তুরস্ক সফরের প্রথম মুসলিম উপাসনালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে শনিবার ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ব্লু মসজিদে প্রবেশ করেন। সম্মানের প্রতীক হিসেবে জুতো খুলে প্রবেশ করলেও, পোপকে মসজিদে প্রার্থনা করতে দেখা যায়নি।

সুলতান আহমেদ মসজিদ হিসাবে পরিচিত ব্লু মসজিদ পরিদর্শনের আগে ক্যাথলিক চার্চের প্রথম আমেরিকান প্রধান মাথা নুইয়ে সম্মান জানান। ইস্তাম্বুলের ইমাম এবং মুফতির নেতৃত্বে তিনি প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশাল কমপ্লেক্সটি ঘুরে দেখেন। সাদা মোজা পরিহিত পোপ ২০ মিনিটের এই পরিদর্শনের সময় হাসিমুখে ছিলেন এবং মসজিদের প্রধান মুয়াজ্জিনের সাথে কৌতুকও করেন।

পোপের এই পরিদর্শনের পর ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ কিছুটা বিস্মিত হয়েছে। কারণ পোপ তুরস্কের রাষ্ট্র-পরিচালিত ধর্মীয় সংস্থা 'দিয়ানত'-এর প্রধানের মাধ্যমে অভ্যর্থনা পাননি এবং তিনি মসজিদে প্রার্থনাও করেননি। পরিদর্শনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ভ্যাটিকান একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, অভ্যর্থনা ও প্রার্থনা দুটোই হয়েছে, যদিও তা ঘটেনি। ভ্যাটিকানের প্রেস অফিস পরে স্বীকার করে, বিবৃতিটি ভুলবশত পাঠানো হয়েছিল।

মুয়াজ্জিন আসকিন মুসা তুঙ্কা সাংবাদিকদের জানান, পরিদর্শনের সময় তিনি পোপকে এক মুহূর্তের জন্য প্রার্থনা করতে চান কিনা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। কিন্তু পোপ জানান, তিনি শুধু মসজিদটি দেখতেই বেশি আগ্রহী। ভ্যাটিকানও পরে এক বিবৃতিতে জানায়, পোপ গভীর সম্মান নিয়ে এই পরিদর্শন করেন।

পোপ মুয়াজ্জিনের সাথে রসিকতাও করেন। বেরিয়ে আসার সময় তিনি দেখেন, তাঁকে এমন একটি দরজা দিয়ে বের করা হচ্ছে যেখানে ‘নির্গমন নিষেধ’ লেখা রয়েছে। পোপ হেসে বলেন, এখানে লেখা আছে বেরোনো যাবে না। জবাবে মুয়াজ্জিন বলেন, আপনাকে বেরোতে হবে না, আপনি এখানে থাকতে পারেন।

মে মাসে পোপ হওয়ার পর এটি লিও’র প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। লিওর তুরস্ক সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘নিকিন ক্রিড’ উৎপাদনকারী প্রাথমিক চার্চ কাউন্সিলের ১,৭০০তম বার্ষিকী উদযাপন করা, যা আজও বিশ্বের বেশিরভাগ খ্রিস্টান ব্যবহার করেন। 

শুক্রবারের এক অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিস্টান নেতাদের সামনে পোপ ধর্মের নামে সহিংসতার নিন্দা করেন এবং খ্রিস্টানদেরকে শতাব্দীর বিভেদ ভুলে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।

তবে এই সফরে পোপের হাজিয়া সোফিয়া পরিদর্শন না করার সিদ্ধান্তটি সবার নজরে এসেছে। এটি বাইজেন্টাইন যুগের এক সময়ের ক্যাথেড্রাল ছিল, যা প্রায় এক সহস্রাব্দ ধরে খ্রিস্টানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয় ছিল। 

প্রায় ৫০০ বছর মসজিদ থাকার পর এটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হলেও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ২০২০ সালে এটিকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তর করেন। ভ্যাটিকান এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস হাজিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে রূপান্তর করায় ২০২০ সালে খুবই আঘাত পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন।