মাঝেমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা রুপালি পর্দাকেও হার মানিয়ে যায়। এমনই এক থ্রিলারের জন্ম দিয়েছেন এক অস্ট্রিয়ান নাগরিক। বান্ধবীকে বরফের পাহাড় চূড়ায় উঠিয়ে সেখানে রেখে চলে যান তিনি। ফলে কনকনে ঠান্ডার জমে মারা যায় সেই নারী। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, পুলিশের জালে ধরা পড়লো সেই ব্যক্তি।
অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত গ্রসগ্লকনারে ৩৩ বছর বয়সী বান্ধবীকে বরফে জমে মৃত্যুর জন্য ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগে ৩৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রিয়ান ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে তীব্র শীতকালীন পরিস্থিতিতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
সংবাদ সংস্থা দ্য মেট্রোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চতা আরোহণে অনভিজ্ঞ ওই নারী ১২,৪৬০ ফুট উচ্চতার শিখরের মাত্র ১৫০ ফুট নিচে ক্লান্ত, হাইপোথার্মিক এবং অরক্ষিত অবস্থায় পড়েছিলেন।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি সালজবার্গের এক অভিজ্ঞ পর্বতারোহী। সাহায্যের খোঁজে যাওয়ার সময় তিনি তার বান্ধবীকে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একা ফেলে রেখে যান। প্রসিকিউটরদের যুক্তি, যেহেতু তিনিই এই ট্রিপের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং তার উন্নত আলপাইন অভিজ্ঞতা ছিল, তাই তিনি গাইডের ভূমিকা পালন করছিলেন এবং তার বান্ধবীর নিরাপত্তার জন্য তার বেশি দায়িত্ব ছিল।
এই গুরুতর অবহেলার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, আরোহণের পরিকল্পনাটি শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তারা দু'ঘণ্টা দেরিতে আরোহণ শুরু করেছিলেন। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় জরুরি সরঞ্জাম ছিল না।
নারীর পরনে ছিলো বিপজ্জনক আলপাইন ভূখণ্ডের জন্য অনুপযোগী পোশাক, একটি স্প্লিটবোর্ড এবং নরম স্নো বুট পরেছিলেন। ওই জুটি প্রতি ঘণ্টায় ৪৬ মাইল বেগে বাতাস এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অনুভূতির তাপমাত্রার মতো চরম আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিপদের লক্ষণগুলো উপেক্ষা করেছিলেন এবং তার সঙ্গীর অনভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আরোহণ চালিয়ে গেছেন। এমনকি সন্ধ্যা হবার আগে জরুরি পরিষেবা ডাকার মতো প্রাথমিক পদক্ষেপও তিনি নেননি।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি উদ্ধারকারীদের বেশ কয়েকটি ফোন কল উপেক্ষা করেছিলেন, কারণ তিনি তার ফোনটি সাইলেন্ট মোডে রেখেছিলেন। তিনি ভোর সাড়ে তিনটায় প্রথম সাহায্য চেয়ে কল করেন। যখন উদ্ধারকারী দল সকাল ১০টা নাগাদ নারীর কাছে পৌঁছায়, ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে ভোরের দিকে হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করতেও দেরি হয়েছিল।
অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, ঘটনাটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মাত্র। আগামী ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইন্সব্রুক আঞ্চলিক আদালতে এই মামলার শুনানি হবার কথা রয়েছে।
এই খবর এমন এক সময়ে এলো যখন কিরগিজস্তানের পোবেদা শৃঙ্গে ৪৭ বছর বয়সী পর্বতারোহী নাতালিয়া নাগোভিৎসিনা মারা যান, যেখানে চরম আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীরা তাকে বাঁচাতে পারেনি।