থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়াকে থামাতে আবারও ফোন দেবেন ট্রাম্প

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া বুধবার সীমান্ত সংঘর্ষে একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জুলাইয়ে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং লড়াই বন্ধ করতে একটি ফোন কল করার কথা বলেছেন।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে এবং কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা উত্তেজনার কূটনৈতিক সমাধানেও মতবিরোধে রয়েছে।

থাই সামরিক বাহিনী বলছে, বুধবার কম্বোডিয়ার বাহিনী ছোঁড়া রকেট সুরিন জেলার এক হাসপাতালের কাছে আঘাত হানে। এর ফলে রোগী ও কর্মীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়।

কম্বোডিয়ার সরকার এ বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও মুখপাত্র পেন বোনা বলেছেন, নমপেনের অবস্থান একই- তারা কেবল শান্তি চায় এবং আত্মরক্ষার জন্য কাজ করেছে।

ট্রাম্প পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ থামানোর প্রস্তাব দেন। এর আগে তিনি দাবি করেন, তিনি পাকিস্তান ও ভারত এবং ইসরাইল ও ইরানের মতো যুদ্ধ বন্ধ করতে সহায়তা করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া আবারও যদ্ধ করেছে, এমনটা বলতে আমার ঘৃণা করে। তবে আবারও সংঘর্ষ শুরু হবার কারণে আমাকে হয়তো আরেকটি ফোনকল করতে হবে। তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমি ছাড়া তো আর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে একটি যুদ্ধ থামাতে ফোন দিবে না। 

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে, থাই সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত রয়টার্সকে জানান, এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। ব্যাংককের অবস্থান হলো আলোচনা কোনো তৃতীয় পক্ষ দ্বারা শুরু হওয়া উচিত নয়।

সিরিপং বলেন, এটি কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে শুরু হওয়া উচিত নয়, বরং এটি কম্বোডিয়ার অবস্থান পরিবর্তন, থাইল্যান্ডকে হুমকি দেয়া বন্ধ করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ করার মাধ্যমে শুরু হতে হবে।

অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের এক শীর্ষ উপদেষ্টা মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেছিলেন, তাঁর দেশ যে কোনো সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি আলোচনার সম্ভাবনা দেখছেন না এবং বর্তমান পরিস্থিতি তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার অনুকূল নয়।

বুধবার কম্বোডিয়া নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় গেমস থেকে তাদের ক্রীড়াবিদদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।