তেল নাকি রেজিম চেঞ্জ, ভেনেজুয়েলা থেকে কী চাইছেন ট্রাম্প?

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড়ো অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলছেন, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল কেড়ে নিতে চান। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি তেলই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য? নাকি এর পেছনে রয়েছে মাদক পাচার ও মাদুরো সরকারের বৈধতার প্রশ্ন? বিশেষ এক প্রতিবেদনে এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিবিসি।

বার্তা সংস্থাটির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরাসরি বলেছেন, ট্রাম্প আমাদের তেল চুরি করতে চান। তার দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো প্রমাণিত তেলের মজুত ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল ভেনেজুয়েলার। আর সেই তেলের লোভেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে এবং মাদক পাচারের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার কয়েকটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে, কারণ তার সরকারের কারণে মাদক ও অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে।

এদিকে ১০ বছর আগেও ভেনেজুয়েলা দিনে ৩০ লাখের বেশি ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। কিন্তু এখন তা নেমে এসেছে মাত্র আট লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে, অর্থাৎ বিশ্বের মোট চাহিদার এক শতাংশেরও কম। দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বিশেষজ্ঞদের পলায়ন, যন্ত্রাংশের অভাব এবং ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, এসব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প ধ্বংসের মুখে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাফ জানিয়েছেন, আমাদের লক্ষ্য তেল নয়, মাদক পাচার বন্ধ করা। 

ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্ক সিএসআইএস-এর বিশ্লেষক ক্লেটন সিগেল বলছেন, তেল দখলের কোনো প্রমাণ নেই। তবে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর চোখ আছে। শেভরন এখনও সীমিত লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। 

স্যাঙ্কশন শিথিল হলে আমেরিকান কোম্পানিগুলো বড়ো সুযোগ পাবে, এটা স্বীকার করেছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মারিয়া এলভিরা সালাজার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল শিল্প ফিরিয়ে আনতে কমপক্ষে ১০ বছর এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লাগবে। আর বিশ্ব এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। তাই মাদুরোর ‘তেল চুরির’ তত্ত্ব দেশের জন্য রাজনৈতিক অস্ত্র হলেও, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য মনে হচ্ছে নিরাপত্তা ও সরকার পরিবর্তন।