মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে আগিল কেশাভারজ নামের ওই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা- মিজান।

চলতি বছরের শুরুতে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পর কথিত সহযোগীদের বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হলো।

২৭ বছর বয়সি স্থাপত্যবিদ্যার ছাত্র আগিল কেশাভারজকে চলতি বছরের শুরুর দিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উর্মিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি সেনা সদর দপ্তরের ছবি তোলার সময় সামরিক টহল দলের হাতে তিনি ধরা পড়েন। বিচার বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেশাভারজ তেহরান, ইসফাহান, উর্মিয়া এবং শাহরুদ জুড়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে ২০০টিরও বেশি মিশন পরিচালনা করেছিলেন।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার ছবি তোলা। নির্দিষ্ট স্থানে ট্রাফিক প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ এবং জনমত জরিপ পরিচালনা। এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মোসাদ এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা। প্রতি মিশন শেষে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পারিশ্রমিক গ্রহণ।

চলতি বছরের জুনে ১২ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত অক্টোবর মাসে ইরান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি বিরোধী আইন আরও কঠোর করেছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসেই ইরান অন্তত ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যাদের মধ্যে একজনকে মোসাদের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুপ্তচর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

নরওয়ে ভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ এ ধরনের সাজার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইরানে অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহভাজনদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে বলে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে।

চলতি বছরের জুনে ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং অন্তত ১১শ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়। ইরানও এর জবাবে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই যুদ্ধের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমন এবং বৈদেশিক চক্রান্ত রুখতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান সরকার।