জানুয়ারিতে মিয়ানমার গণহত্যার শুনানি করবে আইসিজে

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে দায়ের করা মামলায় জানুয়ারি মাসে পাবলিক শুনানি শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। জাতিসংঘভুক্ত সর্বোচ্চ এই আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি থেকে এই ঐতিহাসিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই হবে আইসিজে’তে গুণাগুণ বিচারে শোনা প্রথম গণহত্যা মামলা।

গাম্বিয়ার দায়ের করা এই মামলার শুনানি চলবে দুই সপ্তাহ ধরে। প্রথম সপ্তাহে (১২-১৫ জানুয়ারি) মামলার বাদি পক্ষ পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম প্রধান দেশ গাম্বিয়া তাদের যুক্তি ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করবে। দ্বিতীয় সপ্তাহে (১৬-২০ জানুয়ারি) মিয়ানমার তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাবে।

বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আদালত সাক্ষীদের জবানবন্দি শোনার জন্য তিন দিন বরাদ্দ করেছে। তবে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই অংশটি সাধারণ জনগণ ও সংবাদমাধ্যমের জন্য বন্ধ থাকবে।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্রবাদী বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের বর্বরোচিত অভিযানে রাখাইন রাজ্যে যে ভয়াবহতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে ওআইসির সমর্থনে মামলাটি করে গাম্বিয়া।

২০১৭ সালের অভিযানে প্রায় ৭ লাখ ৪২ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

মিয়ানমারের তৎকালীন ৫৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে রোহিঙ্গারা ছিলো একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া, নির্বিচারে হত্যা এবং গণধর্ষণের মাধ্যমে জাতিগত নিধন চালানো হয়েছে।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আশা করছেন, জানুয়ারির শুনানির পর আদালত দ্রুত একটি চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে। তিনি বলেন, মিয়ানমার কেন রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য দায়ী এবং কেন তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, গাম্বিয়া তা জোরালোভাবে প্রমাণ করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় কেবল রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়, বরং গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার ক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী আইনি নজির হিসেবে কাজ করবে। মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, রাখাইন রাজ্যে বর্তমানেও যে সহিংসতা চলছে, তা বন্ধে এই শুনানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই এই বিশাল শরণার্থী প্রত্যাপর্নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে। জানুয়ারির এই শুনানি সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।