আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটিতে সরকার গঠন করার ঘোষণা দিয়েছিলো তালেবানরা। শিগগরিই আসছে সরকার গঠনের সেই ঘোষণা। আর নতুন আফগান সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গণি বেরাদর।
শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ তালেবান কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়, সংগঠনটির রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোল্লা বেরাদর। তার সঙ্গে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব ও শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই।
এদিকে সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তালেবান নেতারা কাবুলে পৌঁছেছেন। নতুন সরকার ঘোষণার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এর আগে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির অন্যতম নেতা শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই জানিয়েছিলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে নতুন সরকার ঘোষণা করবেন তারা।
একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য মতে, ইরানের ধাঁচে সরকার গঠন করতে চাচ্ছে তালেবানরা। আর সেক্ষেত্রে খমিনির মতো সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার আসনে বসতে পারেন দলের প্রধান হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।
আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডে ছুরি হামলায় ছয় আহত, হামলাকারি নিহত
সংগঠনটির অন্যতম নেতা শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই জানিয়েছিলেন, তালেবান সরকারে নারীদের ভূমিকা থাকবে। তবে সরকারে মন্ত্রী পর্যায়ে কোনো নারী থাকবেন না। একইসাথে গত বিশ বছর যারা মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সরকারে কাজ করেছে এমন কোনো নারীকে তালেবান সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
এর আগে ১৫ আগস্ট কাবুলের মসনদ দখল করে নেয় তালেবানরা। কাবুলের প্রেসিডেন্ট ভবনে মাত্র ৪৫ মিনিটের বৈঠকেই সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে যায়। বৈঠক শেষ হতেই তালেবানের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেন আশরাফ ঘানি। ক্ষমতা ছাড়ার পর তাজিকিস্তানের উদ্দেশ্যে কাবুল ছেড়ে যান তিনি। দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহও পালিয়ে যান।
একাত্তর/আরবিএস