আবারও শান্তির জনপদে অশান্তির ঘটনা। নিউজিল্যন্ডের অকল্যান্ডে একটি সুপার মার্কেটে কমপক্ষে ছয় জনকে ছুরিকাঘাত ও আহত করার পর দেশটির পুলিশ একজন সহিংস চরমপন্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে।
হামলাকারি পুলিশের নজরদারিতে থাকা শ্রীলঙ্কার একজন নাগরিক। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
আরডার্ন জানান, হামলাকারির পরিচয় এখনই জানানো হবে না। তবে এই ব্যক্তি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের অনুসারি ছিলেন। হামলার ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে পুলিশ তাকে হত্যা করে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে আরডার্ন বলেন, আজ যা ঘটেছিলো, তা নিন্দনীয় ছিলো, এটি ঘৃণ্য ছিলো, এটা ভুল ছিলো’।
তিনি আরো বলেন, এটি একজন ব্যক্তি দ্বারা সংগঠিত ঘটনা, কোন বিশ্বাস দ্বারা নয়। হামলার ঘটনায় আমি মারাত্মকভাবে মর্মাহত হয়েছি।
শুক্রবার বিকেলে নিউ লিন জেলার লিনমলে কাউন্টডাউন সুপার মার্কেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারি শপের ভেতরের এক তাক থেকে বড় একটি ছুরি উঠিয়ে নিয়ে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এ সময় পুলিশের নজরদারি দল কাছেই ছিলো।
একজন প্রতক্ষ্যদর্শী জানান, আকস্মিক হামলার ঘটনায় গোটা সুপার মলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। লোকজন দৌড়ে পালাতে শুরু করে। এরমধ্যেই তিনি একজন বয়স্ক লোককে ছুরিকাহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন। এক সময় পুলিশের ছোঁড়া গুলির পর সব শান্ত হয়ে যায়।
আদালতের নির্দেশে পরিচয় গোপন রাখা হামলাকারি ২০১১ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডে যান এবং ২০১৬ সাল থেকে তিনি পুলিশের নজরদারিতে আসেন।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জানান, হামলাকারিকে সব সময় নজরদারির মধ্যে রাখা হতো। কারণ তার চিন্তা-ভাবনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা দলের নজরে ছিলেন এবং সন্ত্রাসী তালিকায় তার নাম ছিলো।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে আইডা পরবর্তী বন্যায় চার রাজ্যে ৪৬ মৃত্যু
আরডার্ন জানান, শুক্রবারের আগ পর্যন্ত হামলাকারি গ্রেপ্তার হবার মতো কোন অপরাধ করেনি। তিনি আইএসআইএস দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
অকল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার অ্যান্ডুকোস্টার জানান, হামলাকারি ছুরি নিয়ে হামলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে নিস্ক্রিয় করেছে। তিনি আরও জানান, হামলাকারি একাই ছিলো, তার সঙ্গে অন্য কোন সন্ত্রাসি বা সন্দেহভাজনের যোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ড সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসি ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলো। এই ঘটনায় একজন উগ্রপন্থী শ্বেতাঙ্গ যুবক ক্রাইস্ট চার্চের একটি মসজিদে ঢুকে ৫১ জন মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা করেছিলো।
একাত্তর/আরবিএস
