চীনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকায়ন নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন।
রয়টার্সের দেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন তার নবনির্মিত তিনটি সাইলো ফিল্ডে (ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র) ইতোমধ্যে ১০০টিরও বেশি আন্তমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) মোতায়েন করেছে।
পেন্টাগনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত সাইলো ফিল্ডগুলোতে চীন মূলত কঠিন জ্বালানি চালিত ডিএফ-৩১ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। যদিও পেন্টাগন আগে থেকেই সাইলো ফিল্ডগুলোর অস্তিত্বের কথা জানতো, তবে এবারই প্রথম সেখানকার ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানালো।
শিকাগো ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা 'বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস' জানিয়েছে, বর্তমানে অন্য যে কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তুলনায় চীন দ্রুতগতিতে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছে।
২০২৪ সাল পর্যন্ত চীনের হাতে প্রায় ৬০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন ও রাশিয়ার সাথে মিলে একটি ত্রি-পক্ষীয় নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার কথা বললেও, বেইজিং এতে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
পেন্টাগনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের কোনো ক্ষুধা বা আগ্রহ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আগামী ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে থাকা 'নিউ স্টার্ট' চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, যা নতুন করে ত্রি-পক্ষীয় পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে চীনের আঞ্চলিক আধিপত্যের পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পেন্টাগন বলছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তাইওয়ানের সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে চীন। এজন্য তারা 'ব্রুট ফোর্স' বা পাশবিক শক্তির ব্যবহার এবং মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫০০-২০০০ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এই ধরনের হামলা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি ও কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বর্তমানে পিপলস লিবারেশন আর্মিতে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন। গত ১৮ মাসে দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অস্ত্র সংস্থাগুলোর অন্তত ২৬ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার বা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, এই শুদ্ধি অভিযান স্বল্পমেয়াদে চীনের সামরিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীন দূতাবাস এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, চীন কেবল রক্ষণাত্মক পারমাণবিক কৌশল বজায় রাখছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অস্ত্রভাণ্ডার হাতে রেখেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে আবারও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, তারা কখনোই আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতিতে অটল রয়েছে।