বড়দিনের আগে ইউক্রেনে পুতিনের ভয়ঙ্কার হামলা, উড়লো ন্যাটোর যুদ্ধবিমানও

পবিত্র বড়দিনের আমেজ যখন বিশ্বজুড়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইউক্রেনজুড়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে ভ্লাদিমির পুতিনের বাহিনী। এই হামলার তীব্রতায় কেঁপে উঠেছে প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোল্যান্ড ও রোমানিয়া সীমান্তে ন্যাটোর যুদ্ধবিমানগুলো জরুরি ভিত্তিতে আকাশে উড়তে শুরু করেছে।

ইউক্রেনের আবাসিক এলাকাগুলোতে রাশিয়ার এই হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হবার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে- যাদের একজন ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা এবং অন্যজন মাত্র চার বছর বয়সী শিশু। এছাড়া হামলায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে।

খারকিভ, রিভনে এবং চেরকাসিসহ একাধিক অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কৃষ্ণসাগরে মোতায়েন করা রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে কালিব্র ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ন্যাটোর তৎপরতা ও সতর্কতা

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ন্যাটোর আকাশসীমার খুব কাছাকাছি চলে আসায় পোল্যান্ডের অপারেশনাল কমান্ড তাদের যুদ্ধবিমানগুলোকে জরুরি উড্ডয়নের নির্দেশ দেয়। পোল্যান্ডের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা এবং রাডার ব্যবস্থাগুলোকেও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, রোমানিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রুশ ড্রোনের আনাগোনা বাড়ায় দেশটির দুটি কাউন্টিতে মধ্যরাতে জরুরি সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়। ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামোতে রাশিয়ার এই হামলা ন্যাটো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও অবকাঠামো ধ্বংস

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় রাজধানী কিয়েভসহ বেশ কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওডেসা বন্দরেও রাশিয়ার বোমারু বিমানগুলো ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এত বছরের হাইব্রিড এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পর এটি বিশ্বাস করা কঠিন যে, পুতিন হত্যা আর আগ্রাসন ছাড়া বাঁচতে সক্ষম।

তিনি আরও যোগ করেন, বড়দিনের সময়ও রাশিয়ার এই ‘বিবেকহীন’ হামলা প্রমাণ করে পুতিন শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই রাশিয়ার এই প্রচণ্ড আক্রমণ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনার কথা বলা হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতেই পুতিন বড়দিনের আগে এই ‘সর্বাত্মক’ হামলার পথ বেছে নিয়েছেন।