মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা এবং দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযানের পর মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে বন্দী করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে যৌথভাবে এই অপারেশনটি পরিচালিত হয়েছে।
আর মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেছেন, মাদুরো অবশেষে তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গোটা বিশ্ব।
শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরে এই হামলা চালায়, যা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার এক নাটকীয় বহিঃপ্রকাশ। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ ও সিবিএস নিউজসহ মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো আগেই দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে হামলার খবর দিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্র সচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডউ বলেছেন, ভেনিজুয়েলা এক নতুন ভোরের সাক্ষী হচ্ছে। তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলার জন্য এক নতুন সূর্যোদয়! স্বৈরশাসক বিদায় নিয়েছে। এখন অবশেষে সে তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হবে।
প্রাথমিক এক বিবৃতিতে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রকে চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসনের জন্য অভিযুক্ত করেছেন। মাদুরো সরকার বলেছে, ভেনিজুয়েলা বর্তমান মার্কিন সরকারের এই নগ্ন সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এর বিচার দাবি করছে।
এই হামলার প্রেক্ষিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
কলম্বিয়া: কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এক বিবৃতিতে পুরো বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন, ভেনিজুয়েলার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কলম্বিয়া যে কোনো সশস্ত্র সংঘাতের চেয়ে শান্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি ভেনিজুয়েলা সীমান্তে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন।
কিউবা: প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল বারমুডেজ একে একটি অপরাধমূলক হামলা হিসেবে নিন্দা জানিয়ে একে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমাদেরই জয় হবে" স্লোগান দিয়ে বিবৃতি শেষ করেন।
ইরান: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভেনিজুয়েলার জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
রাশিয়া: মস্কো এই ঘটনাকে সশস্ত্র আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভেনিজুয়েলার ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার কেবল দেশটির জনগণের, বাইরের কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
স্পেন: মাদ্রিদ এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাবও দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, মাদুরোকে আটকের পর ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে ফোনালাপের পর তিনি এক পোস্টে লিখেন, মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকায় সেখানে আর কোনো অভিযানের প্রয়োজন নেই।