জার্মানিকে ‘নির্লজ্জ দ্বিমুখী’ নীতির দায়ে অভিযুক্ত করলো ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মানবাধিকার ইস্যুতে জার্মানির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বনের তীব্র অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ইরানের নেতৃত্বের সমালোচনা করে যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রেক্ষিতেই আরাগচি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

আরাগচি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে অন্যকে উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে জার্মানি সম্ভবত ‘সবচেয়ে অযোগ্য’ একটি সরকার। তিনি যুক্তি দেন, গাজায় ইসরাইলের নির্বিচার গণহত্যার বিষয়ে বার্লিনের অবস্থানের কারণে তাদের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা পুরোপুরি ‘ধূলিসাৎ’ হয়ে গেছে।

আরাগচি আরও বলেন, ইরান যখন নাগরিক ও পুলিশ সদস্যদের হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের পরাজিত করে, তখন জার্মান চ্যান্সেলর তড়িঘড়ি করে ঘোষণা করেন, ‘সহিংসতা হলো দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ’। তাহলে গাজায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গণহারে হত্যার পেছনে মিস্টার মার্জের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়ে তার কী বলার আছে?

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ প্রকাশ্যে ইরানের সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর আরাগচির এই মন্তব্য এলো। মার্জ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে।

ভারত সফরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মার্জ বলেছিলেন, একটি শাসনব্যবস্থা যদি কেবল শক্তির জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তবে কার্যকরভাবে তার আয়ু শেষ হয়ে এসেছে। আমার বিশ্বাস, আমরা এখন এই শাসনের শেষ দিনগুলো বা সপ্তাহগুলো দেখছি। যাই হোক না কেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে তাদের কোনো বৈধতা নেই। জনগণ এখন এই শাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে।

ইরানে বিক্ষোভকারী নারীদের প্রতি মালালার সংহতি

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি তার সংহতি প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে মালালা লেখেন, ইরানের বিক্ষোভকে শিক্ষা থেকে শুরু করে জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেয়েদের ও নারীদের স্বায়ত্তশাসনের ওপর রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মেয়েদের মতো ইরানের মেয়েরাও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের দাবি জানাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের ভবিষ্যৎ অবশ্যই সে দেশের মানুষের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে, যেখানে ইরানি নারী ও মেয়েদের নেতৃত্ব থাকবে- কোনো বহিঃশক্তি বা নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নয়।

এদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন যে তারা ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সমর্থন করেন, তবে কোনো ধরনের সহিংস বিশৃঙ্খলা সহ্য করবেন না। এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, নিজের জন্মভূমি পাকিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের জন্য ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মালালা ইউসুফজাই।