জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি ধারণা করছেন ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব তাদের শেষ দিন বা সপ্তাহগুলো পার করছে। দেশটিতে বর্তমানে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মূলত চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার অভিযোগ থেকে শুরু হলেও, পরবর্তীতে তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে ভারত সফরে থাকা মার্জ ইরানের নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমি মনে করি আমরা এখন এই শাসনের শেষ দিন ও সপ্তাহগুলো প্রত্যক্ষ করছি।
তিনি আরও বলেন, যখন কোনো শাসনব্যবস্থা কেবল সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তখন কার্যত তাদের সময় ফুরিয়ে আসে। সাধারণ মানুষ এখন এই শাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।

মার্জ জানান যে, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে জার্মানি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানান। তবে ইরানের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়বে।
নানা কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও জার্মানি ইরানের সঙ্গে সীমিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যা বার্লিনকে ইইউর মধ্যে তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত করেছে।
মঙ্গলবার রয়টার্সের দেখা ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইরানে জার্মান রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমে ৮৭১ মিলিয়ন ইউরোতে (১.০২ বিলিয়ন ডলার) দাঁড়িয়েছে, যা জার্মানির মোট রপ্তানির মাত্র ০.১ শতাংশেরও কম।
