ইরানের চলমান বিক্ষোভ আর মার্কিন হুমকিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্টি উত্তেজনায় শুরু থেকেই ঘি ঢালার চেষ্টা করে যাচ্ছে ইসরাইল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই বুধবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারি বিমানটি তাকে ছাড়াই ইসরায়েল ত্যাগ করে একটি অজ্ঞাত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ‘উইং অফ জিওন’ নামে পরিচিত এই উড়োজাহাজটি যখন বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে, তখন নেতানিয়াহু তেল আবিব জেলা আদালতে তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন।
পরে সম্প্রচার মাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিমানটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ জুন তেহরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একইভাবে বিমানটিকে ইসরাইলের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। বুধবারের এই যাত্রা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত নাকি অন্য কোনো কারণে, তা এখনও অস্পষ্ট।
তবে ইরান যুদ্ধের সময় ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিয়েছিল, ইরানের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ভেবেই বিমানটিকে বিদেশে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে চ্যানেল ১২ জনৈক ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই উড্ডয়নটি একটি রুটিন প্রশিক্ষণ মহড়ার অংশ ছিল।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যার একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের এই অর্থহীন হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন।
গত মাসের শেষের দিক থেকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান কর্তৃপক্ষ হতাহত বা আটকের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'এইচআরএএনএ'-এর হিসাব মতে, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ২,৫০০ জন নিহত এবং ১,১০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যদিও এই পরিসংখ্যানগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অন্যান্য সূত্রের হিসাবের সাথে এর পার্থক্য রয়েছে।