গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে পুতিনকে আমন্ত্রণ

গাজা পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবগঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় একঘরে হয়ে থাকা পুতিনের জন্য এটি বিশ্বমঞ্চে ফেরার এক নাটকীয় সুযোগ বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পুতিনকে এই শান্তি পর্ষদে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ক্রেমলিন বর্তমানে এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।

পুতিনের পরপরই বেলারুশ থেকেও একই ধরনের ঘোষণা আসে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বেলারুশ এই পদক্ষেপকে একটি ‘মহৎ দায়িত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে।

ইসরাইল ও হামাসের মধ্যকার দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধ শেষে গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের জন্য জাতিসংঘ সমর্থিত মার্কিন পরিকল্পনার একটি মূল অংশ হলো এই ‘বোর্ড অফ পিস’। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই কমিটির সভাপতিত্ব করছেন। তিনি একে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বোর্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই কমিটির অন্যান্য আমন্ত্রিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বা তাঁর প্রতিনিধি), তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, এই বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্য প্রতিটি রাষ্ট্র বা সদস্যকে এক বিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে হবে। যারা এই অর্থ দেবেন না, তারা কেবল তিন বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্য হিসেবে কাজ করতে পারবেন। উত্তোলিত সব অর্থ গাজা পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। 

ট্রাম্প প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, প্রচলিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতো এখানে কোনো অতিরিক্ত প্রশাসনিক খরচ বা বিশাল বেতনের সুযোগ থাকবে না।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিমা বিশ্ব পুতিনকে এড়িয়ে চলছে। এই বোর্ডে তাঁর অন্তর্ভুক্তি তাঁকে পুনরায় বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে পারে। 

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে রাশিয়ার অবস্থান বরাবরই পশ্চিমা বিশ্বের চেয়ে ভিন্ন। রাশিয়া হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে না এবং গাজা যুদ্ধ চলাকালীন মস্কো একাধিকবার হামাস নেতাদের আতিথেয়তা দিয়েছে। এমনকি ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতেও মস্কো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

চলতি সপ্তাহেই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের রাশিয়া সফরের কথা রয়েছে, যা এই অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।