গাজায় মৃত্যু উপত্যকা হয়ে উঠেছে একটি অস্পষ্ট সীমারেখা

অবরুদ্ধ গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতিও মানছে না ইসরাইল। অদৃশ্য সীমানা রেখা তৈরি করে, ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যার খেলায় মেতে উঠেছে ইসরাইলি সেনারা। রেখা পেরোলেই ইহুদি বাহিনীর নৃশংসতা থেকে রেহাই মিলছেনা শিশুদেরও। বিস্তারিত আরাফাত ইসলামের রিপোর্টে। 

ফিলিস্তিনিদের জীবন যেন সেখানে মূল্যহীন। অদৃশ্য সীমানা রেখা তৈরি করে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অসহায় ফিলিস্তিনিদের নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনিদের চলাফেরায় গাজায় নেই স্পষ্ট চিহ্ন, কোথাও আবার নির্ধারিত সীমানার অনেক ভেতরে টেনে আনা হয়েছে রেখাটি। 

যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি সেনারা যে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইনে’ অবস্থান নিয়েছে, তার আশপাশে প্রতিদিনই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে হাজারো ফিলিস্তিনি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা- এপি জানায়, গত বছর ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলের নির্মমতায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় সাড়ে চারশ’ ফিলিস্তিনি। এরমধ্যে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছে ইয়েলো লাইনের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে। রেহাই পায়নি শিশু-কিশোরাও। 

ইসরাইলি সেনাবাহিনী কিছু জায়গায় হলুদ ব্যারেল ও কংক্রিট ব্লক বসালেও, বহু স্থানে এই সীমারেখা পুরোপুরি অস্পষ্ট। কোথাও কোথাও আবার যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে নির্ধারিত সীমার প্রায় আধা কিলোমিটার ভেতরে টেনে আনা হয়েছে রেখাটি।

গাজার আল-আহলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় প্রতিদিনই গুলিবিদ্ধ ফিলিস্তিনিরা আসছে। দক্ষিণ গাজার উপকূলে মাত্র তিন বছরের শিশু আহেদ আল-বাইয়ুক খেলছিল তাঁবুর বাইরে। আচমকা গুলিতে প্রাণ হারায় সে। তার মায়ের প্রশ্ন, তাহলে যুদ্ধবিরতির অর্থ কী?

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, নিহতদের অধিকাংশই তাদের জন্য হুমকি ছিলো। নিয়ম মেনেই গুলি চালিয়েছে তারা। তবে সীমারেখার অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক মানচিত্র, হোয়াইট হাউসের ম্যাপ এবং বাস্তব চিহ্নের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখছেন বিশ্লেষকেরাও।

চুক্তি অনুযায়ী, এই ইয়েলো লাইনে ইসরায়েলি সেনাদের সাময়িক অবস্থানের কথা থাকলেও, নানা বাহানায় তাদের অবস্থান নতুন করে শঙ্কায় ফেলেছে ফিলিস্তিনিদের। এরইমধ্যে রাফাহসহ বিস্তীর্ণ এলাকা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও যুদ্ধবিরতির পরেও ভেঙে ফেলা হয়েছে বাড়িঘর।

একটি অস্পষ্ট রেখা নাভিশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি করেছে ফিলিস্তিনিদের জীবনে। কাগজে চুক্তির বিভ্রান্তির মূল্য দিতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের জীবন দিয়ে। গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তাই শান্তি আজও অধরা।