তিন মোড়লের লড়াইয়ে উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি, বাড়ছে শঙ্কা

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া তিন পরাশক্তি নেমেছে ক্ষমতা দেখানোর প্রতিযোগিতায়। কে কাকে ছাপিয়ে যাবে। তার এক দৃশ্যমান বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে, তাদের নানা কর্মকাণ্ডে। সামনের দিনে কি তবে ক্ষমতার এই লড়াই নতুন এক বৈশ্বিক টানাপড়েনের বার্তা দিচ্ছে? 

বছরের শুরু থেকেই উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চ। ক্ষমতার লড়াইয়ে কে কাকে ছাপিয়ে যাবে তা নিয়ে বিশ্ব মোড়লরা মেতেছে নানা কর্মকাণ্ডে। কেউ স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তো কেউ শক্ত হাতে ধরে রাখতে চায় নিকট প্রতিবেশীর লাগাম। আবার কারো টার্গেট অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তির প্রভাবে বিশ্বকে মুঠোয় রাখা। সবই নিজের আধিপত্যকে বিশ্বমঞ্চে জানান দেয়া। 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর স্পষ্ট হয়, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরিয়ে এনেছে বল প্রয়োগ নীতি। কথা না মানলে তুলে নেয়া যেন রীতিমতো ছেলে খেলা ওয়াশিংটনের কাছে।  

হোয়াইট হাউজ এই নীতির নাম দিয়েছে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। অভিবাসন, অপরাধ, মাদক পাচার এসব ইস্যুতে সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিমে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তার বজায় রাখতে চায়। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান, লাতিন আমেরিকার ওপর শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ সব মিলিয়ে ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র যে আগ্রাসী ভূমিকায় তা বলাই যায়। 

তবে এ প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র একা নয়। করছে অন্যরাও। চীন তার প্রভাব বিস্তার করছে ভিন্ন কৌশলে। অস্ত্রের ঝনঝনানির চেয়ে অর্থনীতিতে মনোযোগী বেইজিং। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে লাতিন আমেরিকা প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে এখন চীনা বিনিয়োগের ছাপ। বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে চীন থেকে। আর ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র প্রযুক্তি ও খনিজ সম্পদে চীন এগিয়ে আছে আরও অনেকটা। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে বেইজিং, যা স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সামরিক অস্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের সময় এই শক্তির ব্যবহারও করেছে চীন।

অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয়। সেই ক্ষত সারাতেই তাইতো চাপে ইউক্রেনসহ সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলো। 

ইউক্রেন, জর্জিয়া যারাই পশ্চিমামুখী হয়েছে, সেখানেই আগ্রাসন চালিয়েছে ক্রেমলিন। ২০০৮ সালে জর্জিয়া, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল, আর ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ সবই সেই নীতির বাস্তব উদাহরণ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব যে সমঅধিকারভিত্তিক ব্যবস্থার স্বপ্ন বুনেছিলো, আজ তা নড়বড়ে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন আর রাশিয়ার এই ক্ষমতার প্রতিযোগিতা বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে প্রভাব বলয়নির্ভর এক পুরোনো বাস্তবতার দিকে। যেখানে নিয়ম নয়, শক্তিই শেষ কথা। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই প্রতিযোগিতা চলতে থাকলে বিশ্ব রাজনীতি আরও অনিশ্চিত ও সংঘাতপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে।

আরবিএস
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী।  সেই সঙ্গে ওই জলসীমায় শুক্রবার থেকে এ...
ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে চীন ও রাশিয়া তেহরানকে কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক সাহায্য করছে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ট্রাম্প প্রশাসনের এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পদক্ষেপে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কড়া ট্রাম্প-সমালোচক ও কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে...
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বহুমাত্রিক প্রভাব এবার রূপ নিল চরম রাজনৈতিক সংঘাত ও কাদা ছোড়াছুড়িতে। শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে...
রাষ্ট্রায়ত্ত দুই বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা ব্যাংক পিএলসি এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। সোমবার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান...
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে এবং পূজামণ্ডপ দেখতে ঢাকার বাইরে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে তিনি দেশের তিন...
রাশিয়ার নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে ইউক্রেন। মাসের পর মাস ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা, যার ফলে দেশটির অন্তত পাঁচ...
জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধি ও আয়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পুরো ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র গণবিক্ষোভ ও নজিরবিহীন লুটপাটের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছু অঞ্চলে সান্ধ্য আইন...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর