যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া তিন পরাশক্তি নেমেছে ক্ষমতা দেখানোর প্রতিযোগিতায়। কে কাকে ছাপিয়ে যাবে। তার এক দৃশ্যমান বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে, তাদের নানা কর্মকাণ্ডে। সামনের দিনে কি তবে ক্ষমতার এই লড়াই নতুন এক বৈশ্বিক টানাপড়েনের বার্তা দিচ্ছে?
বছরের শুরু থেকেই উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চ। ক্ষমতার লড়াইয়ে কে কাকে ছাপিয়ে যাবে তা নিয়ে বিশ্ব মোড়লরা মেতেছে নানা কর্মকাণ্ডে। কেউ স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তো কেউ শক্ত হাতে ধরে রাখতে চায় নিকট প্রতিবেশীর লাগাম। আবার কারো টার্গেট অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তির প্রভাবে বিশ্বকে মুঠোয় রাখা। সবই নিজের আধিপত্যকে বিশ্বমঞ্চে জানান দেয়া।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর স্পষ্ট হয়, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরিয়ে এনেছে বল প্রয়োগ নীতি। কথা না মানলে তুলে নেয়া যেন রীতিমতো ছেলে খেলা ওয়াশিংটনের কাছে।
হোয়াইট হাউজ এই নীতির নাম দিয়েছে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। অভিবাসন, অপরাধ, মাদক পাচার এসব ইস্যুতে সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিমে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তার বজায় রাখতে চায়। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান, লাতিন আমেরিকার ওপর শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ সব মিলিয়ে ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র যে আগ্রাসী ভূমিকায় তা বলাই যায়।
তবে এ প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র একা নয়। করছে অন্যরাও। চীন তার প্রভাব বিস্তার করছে ভিন্ন কৌশলে। অস্ত্রের ঝনঝনানির চেয়ে অর্থনীতিতে মনোযোগী বেইজিং। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে লাতিন আমেরিকা প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে এখন চীনা বিনিয়োগের ছাপ। বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে চীন থেকে। আর ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র প্রযুক্তি ও খনিজ সম্পদে চীন এগিয়ে আছে আরও অনেকটা। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে বেইজিং, যা স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সামরিক অস্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের সময় এই শক্তির ব্যবহারও করেছে চীন।
অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয়। সেই ক্ষত সারাতেই তাইতো চাপে ইউক্রেনসহ সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলো।
ইউক্রেন, জর্জিয়া যারাই পশ্চিমামুখী হয়েছে, সেখানেই আগ্রাসন চালিয়েছে ক্রেমলিন। ২০০৮ সালে জর্জিয়া, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল, আর ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ সবই সেই নীতির বাস্তব উদাহরণ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব যে সমঅধিকারভিত্তিক ব্যবস্থার স্বপ্ন বুনেছিলো, আজ তা নড়বড়ে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন আর রাশিয়ার এই ক্ষমতার প্রতিযোগিতা বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে প্রভাব বলয়নির্ভর এক পুরোনো বাস্তবতার দিকে। যেখানে নিয়ম নয়, শক্তিই শেষ কথা। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই প্রতিযোগিতা চলতে থাকলে বিশ্ব রাজনীতি আরও অনিশ্চিত ও সংঘাতপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে যথাসময়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায় জাতিসংঘ
সংসদ নির্বাচন: ৩০৫ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার, লড়াইয়ে ১,৯৬৭ প্রার্থী