গাজা উপত্যকায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে টনের পর টন বোমা ফেলে মাটির সঙ্গে মিলিয়ে দেয়ার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সেই উপত্যকা পুর্নগঠনের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরষদে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন তিনি। বুধবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয়া হয়।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু এই উদ্যোগে শামিল হচ্ছেন।
হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ড গাজার শাসনক্ষমতার কাঠামো তৈরি, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বড় ধরনের তহবিল সংগ্রহের কাজ তদারকি করবে। তবে এই বোর্ডের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতে।
শুধুমাত্র নেতানিয়াহু নন, এই বোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনকেও, যাঁর বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আইসিসির পরোয়ানা রয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা এই প্রস্তাবের সূক্ষ্ম সব বিষয় খতিয়ে দেখছে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই আরব আমিরাত, মরক্কো, ভিয়েতনাম, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, আর্জেন্টিনা ও আজারবাইজান এই বোর্ডে যোগ দিতে রাজি হয়েছে। তবে সুইডেন প্রস্তাবিত রূপরেখার কারণে এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমন্ত্রণ পেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বোর্ড অব পিসের নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন হাই-প্রোফাইল সব ব্যক্তিত্ব- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।
উল্লেখ্য, একটি স্থায়ী আসনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এক বিলিয়ন ডলার প্রদান করতে হবে বলে জানা গেছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে ট্রাম্প এই বোর্ডের সনদ স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বোর্ডের পরিধি শুধুমাত্র গাজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংকট সমাধানে কাজ করবে। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এই বোর্ডকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছেন।
এই প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, তারা জাতিসংঘ-কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব শৃঙ্খলার পক্ষে।
ইসরাইলের ভেতরেও এই বোর্ড নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অতি-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই বোর্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, গাজার ভবিষ্যতের জন্য ইসরাইলের একতরফা দায়িত্ব নেওয়া উচিত। এর আগে নেতানিয়াহুর দপ্তরও এই নির্বাহী কমিটির গঠন নিয়ে আপত্তি তুলেছিল, কারণ সেখানে ইসরাইলের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।