রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে অন্ধকারে ১২ লাখ ইউক্রেনীয়

ইউক্রেনের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে শনিবার ভোরের দিকে আবারও বিশাল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাতভর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী কিয়েভ; যার ফলে দেশজুড়ে প্রায় ১২ লক্ষ ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এতে করে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডার মধ্যে শনিবার সকালে কিয়েভের প্রায় ছয় হাজার ভবন তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (হিটিং) বিহীন অবস্থায় ছিল। আগের হামলাগুলোতে শহরের কেন্দ্রীয় তাপ বিতরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক বাসিন্দার অ্যাপার্টমেন্ট আগে থেকেই বরফশীতল হয়ে ছিল। খবর রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা দ্বিতীয় দিনে গড়ালেও, মস্কো এসব হামলা চালায়। গত শুক্রবারের আলোচনায় কোনো পক্ষই সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রুশ হামলায় রাজধানীতে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে একটি শিশুসহ ১৯ জন আহত হয়েছেন।

ukrain2

২০২২ সালে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিড লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে আসছে। তবে চলতি শীতে তারা জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর সব থেকে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ শুরু করেছে, যার ফলে ইউক্রেনীয়রা দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাচ্ছে; এমনকি অনেকে পানি ও তাপ নিয়ন্ত্রণ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন, সবশেষ এই হামলার পর রাজধানীতে আট লাখ এবং উত্তরের চেরনিহিভ অঞ্চলে আরও চার লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর হামলায় ৩৭৫টি ড্রোন এবং ২১টি মিসাইল ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে অত্যন্ত বিরল ‘তসিরকন’ ব্যালিস্টিক মিসাইলও ছিল।

রাজধানী কিয়েভের আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধের ফলে নিয়মিত কমলা রঙের আভা দেখা যাচ্ছিল এবং সুউচ্চ ভবনগুলোতে প্রচণ্ড শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেনকো চার জেলায় হামলার খবর দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে চিকিৎসা কেন্দ্রও রয়েছে।

ukrain1

শনিবারের আগে নববর্ষের পর থেকে কিয়েভ আরও দুটি বড় ধরনের নৈশ হামলার শিকার হয়েছে, যা শত শত আবাসিক ভবনের বিদ্যুৎ ও তাপ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সেবাগুলো পুনরুদ্ধারে কাজ করছিলেন; ক্লিচকো জানান, শনিবার যে ভবনগুলো হিটিং হারিয়েছে, সেগুলোর অনেকটিতে মাত্র কয়েকদিন আগে সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছিল।

রুশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পূর্ব রণক্ষেত্রের নিকটবর্তী শহর খারকিভে ২৫টি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ইহোর তেরেখভ। তিনি জানান, ড্রোনগুলো বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়শিবির এবং একটি প্রসূতি হাসপাতালসহ দুটি চিকিৎসা কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।