ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন যুদ্ধের ঘনঘটা। একদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে নারাজ, ঠিক তখনই ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল ১৪' এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছে। খবর অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে 'দ্রুত ও শক্তিশালী' সামরিক হামলার বিষয়ে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এনিয়ে পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করে ফেলেছে দুই দেশ।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির সময় পার হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তেল আবিবে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল- প্রয়োজন পড়লে ইরানের ওপর কীভাবে একটি ‘দ্রুত, আকস্মিক এবং নিখুঁত’ অপারেশন চালানো যায়, তার রূপরেখা তৈরি করা।
বৈঠকের সূত্র ধরে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মনে করে ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। যদি সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে তার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে- বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নকারী গোষ্ঠী, অর্থাৎ খামেনি প্রশাসনে শীর্ষ ব্যক্তিরা। ফলে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বদলে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘সারপ্রাইজ’ অ্যাটাক বা ঝটিকা অভিযানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পুরো বিমান বাহিনী এখন হাই অ্যালার্টে রয়েছে। দেশটির চিফ অফ জেনারেল স্টাফ আইয়াল জামির এবং বিমান বাহিনী প্রধান তোমার বারের সাথে মার্কিন কমান্ডারের বৈঠকের পর এই সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরান আগাম হামলা চালাতে পারে, যা রুখতেই এই প্রস্তুতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে বিমান পরিষেবাতেও। নিরাপত্তার খাতিরে একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের রুট পরিবর্তন বা স্থগিত করেছে। এয়ার ফ্রান্স ও কেএলএম দুবাই, রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। লুফথানসা ২৮ মার্চ পর্যন্ত তেহরানগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে জার্মানি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বাহরাইনগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। অধিকাংশ এয়ারলাইন্স এখন ইরান, ইরাক এবং ইসরাইলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, একটি শক্তিশালী নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সরিয়ে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’-কে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছে। অন্যদিকে, পশ্চিমা শক্তির দাবি, সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতেই তারা এই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। যুদ্ধের এই দামামা মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাপ্রলয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না, তা সময়ের অপেক্ষা।