ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি সমঝোতামূলক সমাধানের আশা রাখলেও, ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প খোলা রেখেছে বলে শনিবার আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ইরানের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করতে অস্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই সেটি বলতে পারছেন না।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় জানতে চাওয়া হয়, ইরান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিনা। জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি অবশ্যই আপনাদের তা বলতে পারি না। তবে তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিপূর্বেই সেখানে অত্যন্ত বড় ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। একইসাথে তিনি কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমি আশা করি গ্রহণযোগ্য কিছু নিয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।
ইরানে ডিসেম্বরের শেষে শুরু হওয়া এবং ৮-৯ জানুয়ারি চরমে পৌঁছানো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে তেহরান কঠোর পদক্ষেপ নিলে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে মোড় নিয়েছে, যা পশ্চিমারা মনে করে পারমাণবিক বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান একটি চুক্তি করতে চায়।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াও ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদি মন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হামলা থেকে পিছিয়ে আসে, তবে তা ইরানকে আরও দুঃসাহসী করে তুলবে। ইরানে মার্কিন হামলা হলে সৌদি আরবের আপত্তিও থাকবে না।
প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং ভিন্ন ভিন্ন মতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ তেমনটা মনে করেন, আবার কেউ কেউ করেন না।
কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিয়ে ট্রাম্প যোগ করেন, পরমাণু অস্ত্রবিহীন একটি চুক্তিই হবে সেরা ফলাফল। তিনি বলেন, যদি পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়াই একটি সন্তোষজনক সমঝোতায় পৌঁছানো যায়, তবে তাদের (ইরান) সেটাই করা উচিত। তবে ইরানের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, তারা তা করবে কি না আমি জানি না, তবে তারা আমাদের সাথে কথা বলছে, বেশ গুরুত্ব দিয়েই কথা বলছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যমতে নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। তবে তাদের দাবি, নিহতদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা ‘দাঙ্গাকারীদের’ হাতে প্রাণ হারানো সাধারণ পথচারী।
এদিকে তেহরানে কর্তৃপক্ষের অবস্থানকে সমর্থন জানাতে বিভিন্ন বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশাল পোস্টারে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ধ্বংস হওয়ার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।