মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা এবং মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হতে যাওয়া কূটনীতিকে স্বাগত জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মঙ্গলবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিট’-এ আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এক প্যানেল আলোচনায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যে অনেক ধ্বংসাত্মক সংঘাত দেখেছে। এখন প্রয়োজন সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান, যাতে প্রতিদিন নতুন নতুন সংকটের জন্ম না হয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এই আলোচনায় সৌদি আরব এবং মিশরের প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে আলোচনার আবহে সুর চড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে ইরানের উপকূলের দিকে এগোতে থাকা মার্কিন রণতরীগুলোর কারণে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে রয়েছে। একদিকে মার্কিন সামরিক হামলার ভয়, অন্যদিকে গত মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ওপর চালানো রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের পর জনরোষ। ছয়জন বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তার মতে, তেহরান আশঙ্কা করছে, মার্কিন হামলা শুরু হলে বিক্ষুব্ধ জনতা আবারও রাস্তায় নেমে আসতে পারে, যা দেশটির শাসনব্যবস্থাকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাবে। কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মনে এখন আর ভয়ের দেয়াল নেই।
আলোচনা শুরুর জন্য ট্রাম্প মূলত তিনটি শর্ত দিয়েছেন। এক. ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। দুই. ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আনা। তিন. আঞ্চলিক ছায়া গোষ্ঠী বা প্রক্সি যোদ্ধাদের সমর্থন বন্ধ করা।
ইরানি কর্মকর্তারা জানান, যদিও তারা এই শর্তগুলোকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন মনে করেন, তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চেয়ে ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দেয়া তাদের জন্য বেশি কঠিন হতে পারে।
গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনে হুথিদের ওপর ইসরাইলি হামলা এবং সিরিয়ার মিত্র বাশার আল-আসাদের পতনের ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব অনেকটাই খর্ব হয়েছে। গত বছরের জুনে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসফাহান ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সেখানে কিছু মেরামতের কাজ চলছে, তবে নতুন করে কোনো বড় পুনর্গঠন নজরে আসেনি।