দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার প্রথমবারের মতো গাজার রাফাহ সীমান্ত পারাপার সীমিত পরিসরে উন্মুক্ত করেছে ইসরাইল। মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রাথমিক ধাপের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হলেও, ইসরাইলের কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির কারণে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।
গাজা উপত্যকার ২০ লাখেরও বেশি মানুষের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ ‘রাফাহ ক্রসিং’ অবশেষে খুলে দেয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ আর ধ্বংসাবশেষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই সীমান্ত পথটি সোমবার সকাল ৯টা থেকে কার্যকর হয়। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
প্রথম দিনে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনির গাজায় প্রবেশ এবং সমসংখ্যক মানুষের গাজা ত্যাগের কথা থাকলেও ইসরাইলি নিরাপত্তা তল্লাশির কারণে সেই সংখ্যা অনেক কম ছিল। রাত পর্যন্ত মাত্র ১২ জন ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরতে পেরেছেন। বাকি ৩৮ জন ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় মিশরের দিকে রাত কাটাতে বাধ্য হন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজা ত্যাগের অপেক্ষায় থাকা পাঁচ রোগী ও তাদের দুই জন করে সহযোগীকে মিশরের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই ধীরগতির জন্য ইসরাইলি কঠোর তল্লাশিকে দায়ী করেছেন। প্রায় ২০ হাজার গাজাবাসী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
৩২ বছর বয়সী মুস্তাফা আবদেল হাদি, যিনি আল-আকসা মার্টিয়ার্স হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, তিনি বলেন, এই ক্রসিং আমাদের মতো রোগীদের জন্য একমাত্র ‘লাইফলাইন’। আমরা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।
২০২৪ সালের মে মাসে ইসরাইল এই সীমান্তটি দখল করে নেয়ার পর থেকে এটি মূলত বন্ধই ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করা, জিম্মি মুক্তি এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে গাজা পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যদিও হামাস এখনও অস্ত্র ছাড়তে রাজি হয়নি এবং ইসরাইলও প্রয়োজনে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

রাফাহ ক্রসিং খুললেও ইসরাইল এখনও বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। যুদ্ধের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো গাজার ভেতরকার খবর সংগ্রহের জন্য শুধু স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্ভরশীল, যাঁদের মধ্যে কয়েকশ সাংবাদিক ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরাইলি সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের একটি পিটিশন বিবেচনা করছে।
সীমান্ত উন্মুক্ত হওয়ার দিনও গাজায় সহিংসতা থামেনি। উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় পৃথক ইসরাইলি হামলায় এক তিন বছরের শিশুসহ চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার ৫৩ শতাংশেরও বেশি এলাকা ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং বেশিরভাগ বাসিন্দা উপকূলীয় অঞ্চলে তাবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
কিয়েভসহ ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি