মার্কিন হুমকির মুখে ইরানের দ্বিমুখী কৌশল

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবিরত সামরিক হুমকির মুখে ইরান এক দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি সরাসরি সামরিক শক্তির মহড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ঐতিহাসিক তাবরিজ গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে হাজারো মানুষের সামনে দেওয়া এক ভাষণে আয়াতুল্লাহ খামেনি মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনীর বড়াই করার জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে যা থেকে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না।


মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একটি যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই বিপজ্জনক সরঞ্জাম, তবে তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা ওই যুদ্ধজাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

খামেনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ভালো করেই জানেন তারা যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে এর পরিণতি সামলানোর ক্ষমতা তাদের নেই। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জন করা ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং এতে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই।

একদিকে যখন সর্বোচ্চ নেতা কড়া বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনায় কিছু উৎসাহব্যঞ্জক সংকেত পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষই কিছু বাস্তবধর্মী প্রস্তাব বিনিময় করেছে।

তবে আলোচনার টেবিলে নমনীয়তা দেখালেও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইরান মার্কিন প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, আমরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান এই অচলাবস্থা নিরসনে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আয়াতুল্লাহ খামেনি মার্কিন আলোচনার ধরনকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আগেই ফলাফল নির্ধারণ করে দিতে চায় যে, ইরান পরমাণু শক্তি রাখতে পারবে না। তাঁর মতে, এমন একতরফা শর্ত আলোচনার পথকে রুদ্ধ করে দেয়।

 
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বক্তব্যগুলো থেকে এটি পরিষ্কার যে, তেহরান কোনোভাবেই মার্কিন চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে রাজি নয়। একদিকে তারা আলোচনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যে কোনো সামরিক হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ-প্রতিরক্ষাকে প্রস্তুত রাখছে। বিশ্বের নজর এখন বৃহস্পতিবারের জেনেভা বৈঠকের দিকে, যা এই অঞ্চলের যুদ্ধের সম্ভাবনা বা শান্তির পথ নির্ধারণ করবে।