দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং যুদ্ধের আশঙ্কার মাঝে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওমান, ইরান এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এই আলোচনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই বৈঠকটি হবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডেই দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।
রোববার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে টেলিফোনে কথা বলেন এবং আসন্ন জেনেভা বৈঠকের ব্যবস্থাপনা ও আলোচনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ করেন।
দ্বিতীয় দফার আলোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয় দফায় আলোচনা অনেক বেশি গঠনমূলক এবং গুরুত্বের সাথে পরিচালিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই পক্ষই কিছু মৌলিক নির্দেশনামূলক নীতির ব্যাপারে একটি সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এখন থেকে উভয় পক্ষ এই নীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে চুক্তির একটি খসড়া পাঠ্য তৈরির পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
জেনেভা বৈঠকের গুরুত্ব বিবেচনা করে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথেও টেলিফোনে কথা বলেন। এই আলাপকালে আরাগচি পরমাণু আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আমিরাতকে অবহিত করেন। দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
একদিকে মার্কিন সামরিক শক্তির মহড়া এবং অন্যদিকে ইরানের ক্রমাগত হুঁশিয়ারির মধ্যে এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ২৬ ফেব্রুয়ারির এই তৃতীয় দফার বৈঠকটি নির্ধারণ করবে, মধ্যপ্রাচ্য কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে হাঁটবে, নাকি সামরিক সংঘাতের দিকে অগ্রসর হবে।
মার্কিন সমরশক্তি অপরাজেয় নয়, ইরানি সেনাপ্রধানের চ্যালেঞ্জ
পরমাণু আলোচনার খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করছে ইরান