ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার এই সংকটময় মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড এক অদ্ভুত ও বিড়ম্বনাপূর্ণ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই যুদ্ধজাহাজটি বর্তমানে তার উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে অপারেশনাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যা সমুদ্রের মধ্যে ঠিক করার আপাতত কোন উপায় নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে যখন বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এর ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো। অত্যাধুনিক এই যুদ্ধজাহাজটি বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী পয়ঃনিষ্কাশন বিপর্যয়ের সম্মুখীন, যা এর সাড়ে চার হাজারের বেশি নাবিক, সেনা সদস্য ও কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
২০১৭ সালে কমিশন করা এই রণতরীটি তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ১৩ বিলিয়ন ডলার। পানি সংরক্ষণের জন্য এতে লাক্সারি ক্রুজ শিপের মতো বিশেষ 'ভ্যাকুয়াম পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা' যুক্ত করা হয়। জাহাজটিতে ৬০০টির বেশি টয়লেট রয়েছে যা ১০টি আলাদা জোনে বিভক্ত।
তবে চার হাজার ছয়শ’র বেশি ক্রু সদস্যের ব্যবহারের চাপের তুলনায় এর পাইপগুলো অত্যন্ত সরু। ফলে প্রায়ই ভ্যাকুয়াম সিস্টেম বিকল হয়ে পড়ছে এবং পুরো এলাকা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।
এই সমস্যাটি নতুন নয়। ২০২৫ সালে ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানের সময় এই রণতরীটি মোতায়েন ছিল। সেই সময় মাত্র ৪ দিনের মধ্যে ২০৫ বার সিস্টেমটি অকেজো হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। গড়ে প্রতিদিন ৫১টি অভিযোগ আসছিল শুধু টয়লেট রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নাবিকরা জানিয়েছেন, জাহাজের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং টিমগুলো দিনরাত পরিশ্রম করেও এটি পুরোপুরি মেরামত করতে পারছে না।
ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিস্টেমটি পরিষ্কার করার জন্য বিশেষায়িত 'অ্যাসিড ফ্লাশ' প্রয়োজন, যার প্রতিবারের খরচ প্রায় চার লক্ষ ডলার। এটি শুধু ব্যয়বহুলই নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ের উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন এই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি মার্কিন নৌবাহিনীর 'অপারেশনাল রেডিনেস' বা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
যদিও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এই সমস্যা ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না, তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে নাবিকদের মনোবল ও জীবনযাত্রার মান বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পৌঁছানোর আগেই ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে তার অভ্যন্তরীণ এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মুখে থাকা এই বিশাল রণতরীটি কি তার সবটুকু সক্ষমতা নিয়ে লড়াই করতে পারবে, নাকি এই অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক বিড়ম্বনা ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় নতুন কোনো বাধা তৈরি করবে, তা এখন দেখার বিষয়।