ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট’ ও ‘কঠোর’ জবাব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার ভোর সকালে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে উস্কানিমূলক বিমান হামলার পর ইরান এই পাল্টা হামলা শুরু করে।
আইআরজিসি তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ শুরু করেছে। অভিযানের আওতায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরাইল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সামরিক আস্তানাগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে, এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।
ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে ‘শাজারে তাইয়েবাহ’ নামক একটি বালিকা বিদ্যালয় সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে। মিনাব প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহর নিশ্চিত করেছেন যে, এই নৃশংস হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছে এবং আরও বহু ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছে।
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। নাগরিকদের শান্ত থাকতে এবং সম্ভব হলে ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি অফিসগুলো আপাতত ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে চলবে বলে জানিয়েছে তেহরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগামী ছয় ঘণ্টার জন্য ইরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাই বাজারে ভিড় না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে ব্যাংক সেবা চালু থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলার উৎস বা যে দেশ থেকেই হামলা চালানো হোক না কেন, সেই স্থানটিই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের উচিত অবিলম্বে এই আগ্রাসনের নিন্দা জানানো। যদি বিশ্ব সম্প্রদায় এই অবৈধ হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়, তবে এটি হবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতনের শুরু।
তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কেবল একটি অজুহাত মাত্র। যখনই কূটনৈতিক আলোচনা চলে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিশ্বাসভঙ্গ করে হামলা চালায়।
রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অন্তত দুটি স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। শহরের আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। একদিকে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলা, অন্যদিকে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গগনবিদারী শব্দে পুরো অঞ্চল এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।