যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল বাণিজ্যনীতি’ সংশোধনের আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য তদন্তের প্রতিবাদে বেইজিং মার্কিন পক্ষকে ‘ভুল বাণিজ্যনীতি ও পদ্ধতি’ অবিলম্বে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তির তাগিদ দিয়েছে চীন। খবর এএফপির।

সোমবার (১৬ মার্চ) চীন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে প্যারিসে দুই দেশের আলোচকদের বৈঠকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্বেগ ও অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য তদন্তে চীনসহ ৬০টি অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো—সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ‘বাধ্যতামূলক শ্রমের’ বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে কি না এবং তা মার্কিন বাণিজ্যকে সীমাবদ্ধ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।

অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া মার্কিন তদন্তের ঠিক একদিন পরই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যেখানে চীনসহ ১৬টি বাণিজ্যিক অংশীদারকে লক্ষ্য করা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক ছলনা’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র সমালোচনা করেছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমরা মার্কিন পক্ষকে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে ভুল পদ্ধতি সংশোধন করুন এবং চীনের সঙ্গে মধ্যপন্থায় এসে সব বিষয় সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করুন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই তদন্ত ‘অত্যন্ত একতরফা, স্বেচ্ছাচারী ও বৈষম্যমূলক’।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, রোববার প্যারিসে দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। এই বৈঠক দুই দিনব্যাপী চলার কথা রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের ওপর জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তবে বেইজিং শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলোকে ‘মনগড়া’ বলে অস্বীকার করে আসছে।

এই দুই ধরনের বাণিজ্য তদন্ত সম্পন্ন হতে সম্ভবত কয়েক মাস সময় লাগবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের ব্যাপক শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করার পর, এই নতুন তদন্তগুলো আবারও শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

এদিকে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করবেন। তবে বেইজিং এখনো এই সফরের তারিখ নিশ্চিত করেনি। ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে এই শীর্ষ বৈঠকটি পিছিয়ে যেতে পারে।