যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থা 'সম্পূর্ণ ভাঙন' এর পথে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকা দেশটির অর্থ প্রবাহ সচল রাখার উপায় খুঁজে পাচ্ছে না আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বর্তমানে বিদেশে হিমায়িত অবস্থায় আছে। যা এখনো নতুন তালেবান সরকারের হাতে আসেনি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেবোরা লিয়নস বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, আফগানিস্তানের অর্থনীতি এবং সামাজিক শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙন আটকাতে দেশটিতে অর্থ আনার জন্য একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান একটি ঝড়ের সম্মুখীন। টাকার মূল্য কমে যাওয়া, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বেসরকারি ব্যাংকে নগদ টাকার অভাব দেখা দিয়েছে।
এক্ষেত্রে তালেবানদের নমনীয়তা প্রদর্শনের সুযোগ দিতে হবে বলেও জানান তিনি।
দেশটিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম। এতে নতুন করে খাদ্য ও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে আছে আফগানিস্তান।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে আফগানিস্তানের অর্থনীতি। এই পরিস্থিতি লাখ লাখ আফগানকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাছাড়া ক্ষমতা দখলের পর সাধারণ ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিলেও তালেবানরা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের হাতে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ এসেছে বলেও জানায় সংস্থাটি।
আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলো জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি)।
আরও পড়ুন: হয় টিকা নয়তো প্রতি সপ্তাহে করোনা পরীক্ষা: বাইডেন
সংস্থাটি আরও জানায়, আফগানিস্তানের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সংকোচনের ফলে দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে আফগানিস্তানের নতুন সরকারকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি দেশটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে তিন কোটি ১০ লাখ ডলার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে চীন। করোনা মহামারী মোকাবেলা ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে আফগানিস্তানকে এই সহায়তা দিলো শি জিনপিং প্রশাসন।
একই সুরে কথা বলছেন তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদও।
এক সাক্ষাৎকারে জবিউল্লাহ বলেছেন, করোনা মোকাবেলায় বেইজিং তাদের সহায়তা বাড়াবে। চীন আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। তারা আমাদের দেশে বিনিয়োগ ও পুনর্নির্মাণে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস