ট্রাম্পের ফোনকলের পর সুর নরম, লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় রাজি ইসরাইল

লেবাননে চলমান ইসরাইলি বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আলোচনায় বসছে দেশ দু'টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসরাইলে ইরানের লাগাতার হামলা এবং ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান চাপে সুর নরম করেছে তেল আবিব।   

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে। ইসরাইলের বোমা হামলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিতে পারে— এমন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, বৈরুতের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, আমাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। 

তবে হিজবুল্লাহ বরাবরই অস্ত্র সমর্পণ না করার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।  

এর আগে ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পর লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগিয়ে যেতেও প্রস্তুত বলে জানান। 

তবে দখলদার ইসরাইল লেবাননের প্রেসিডেন্টের সেই ঐতিহাসিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। 

সবশেষ মঙ্গলবার, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইসরাইল তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসে। পাকিস্তানে আলোচনার আগে লেবাননে ইসরাইলের সন্ত্রাসী হামলা বন্ধের জন্য ইরানের চাপ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক ফোনকলে নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলা কমাতে বলেন। 

পরে নেতানিয়াহু জানান, ইসরাইল লেবাননের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করবে।  

দুই ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার এবং তার লেবানিজ প্রতিপক্ষ নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদের মধ্যে ওয়াশিংটনে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। 

এদিকে নেতানিয়াহু লেবাননের সাথে যে কোনো সম্ভাব্য আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার সাবেক কৌশল বিষয়ক মন্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন রন ডারমারকে মনোনীত করেছেন। 

তবে একটি ইসরাইলি সূত্র জানিয়েছে, ডারমার পরবর্তী আলোচনায় অংশ নিতে পারেন, কিন্তু আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে তার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে আলোচনার জন্য লেবাননের প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক লেবানিজ রাষ্ট্রদূত সাইমন কারামকে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু লেবানিজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনিও আগামী সপ্তাহের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না।