বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফা ভোট, বিপাকে ৯০ লাখের বেশি ভোটার

আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিধানসভার প্রথম দফার নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারে ব্যস্ত বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। মূলত বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও ভোটার তালিকা সংশোধন হওয়ায় কে সরকার গড়বে তা অনুমান করতে পারছেন না বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ভোটে সব ধরনের সহিংসতা রোধে প্রথম দফায় মোতায়েন করা হবে প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ। আর প্রার্থীরাও ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রচারে। নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৬ জেলায় ১৫২ আসনে ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। 

এরইমধ্যে বিজেপির পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং ছাড়াও উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্য নাথ, দিল্লির রেখা গুপ্ত। 

অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষে রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূলের পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

তবে এবার ভোটার তালিকা সংশোধন হওয়ায় কে সরকার গড়বে তা অনুমান করতে পারছেন না বিশ্লেষকরা। সংশোধনে মৃত, বদলি, ভুয়া আর নথি না থাকায় ৯০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে নতুন যুক্ত হয়েছে সাত লাখের কিছু বেশি ভোটার।

যার ফলে ৯০ লাখের বেশি ভারতীয় নাগরিক ভোট দিতে অযোগ্য হয়ে গেছেন এবং ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, কিছু সম্প্রদায়ের ভোটারদের স্বভাবতই বেশিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, প্রক্রিয়াটি নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছে, এবং প্রভাবিত ভোটাররা আপিল করে নাম ফেরানোর সুযোগ পাবেন।

এদিকে প্রচারে নিজের দলের পক্ষে সাফাই গাইলেও অন্য দলের কঠোর সমালোচনা করছেন দলীয় নেতারা। ভোটের মাধ্যমেই সব শোষণ ও নিপীড়নের জবাব দেয়ার কথা বলেন তৃণমূলের নেতারা। আর বিজেপির নেতারা এবার বাংলা বধের আশা করছেন।  

বাংলার নিজের পরিচয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস, এরপর কমিউনিস্ট ও পরে ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে বাংলার সব কিছু লুটপাট হয়েছে। যে বাংলা একসময়ে ভারতের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতো আজ তারাই কাঙাল হয়ে যাচ্ছে। 

প্রথম দফার নির্বাচনের পর দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। আর সে নির্বাচনে ৭ জেলার ১৪২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১ হাজার ৪৪৮ প্রার্থী। ৪ মে ২৯৪ আসনের ভোট গণনা হবে। যেখানে সরকার গড়তে ১৪৮ আসনে জিততে হবে জয়ী দলকে।