মার্কিন ভণ্ডামিতেই থমকে আছে শান্তি আলোচনা: ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ক্রমাগত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নৌ-অবরোধ এবং সামরিক হুমকিই আমেরিকার সাথে প্রকৃত আলোচনার পথে প্রধান অন্তরায়। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি তেহরানের কূটনৈতিক সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের স্ববিরোধী আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সব সময়ই সংলাপ ও সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এখনো সেই অবস্থানে অটল রয়েছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা অত্যন্ত সংকটজনক। ওই দিন থেকে আমেরিকা ও ইসরাইল সম্মিলিতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, যার আওতায় উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে স্কুল, হাসপাতাল ও ব্রিজের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের মতে, যুদ্ধের ময়দানে 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর মাধ্যমে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। তেহরান এই অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধবিরতির শর্তাবলির সুস্পষ্ট অবমাননা হিসেবে গণ্য করছে।

ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় ইরান অংশগ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অবরোধ এবং হুমকি- এগুলোই আসল আলোচনার পথে বড় বাধা। বিশ্ববাসী আপনাদের অন্তহীন ভণ্ডামিপূর্ণ বাগাড়ম্বর এবং কথা ও কাজের মধ্যে বিদ্যমান বৈপরীত্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

পরিশেষে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আমেরিকা একদিকে কূটনীতির কথা বলছে এবং অন্যদিকে সামরিক হামলার হুমকি ও অবৈধ অবরোধ জারি রাখছে। ওয়াশিংটনের এই স্ববিরোধী অবস্থান বজায় থাকলে ফলপ্রসূ কোনো আলোচনা সম্ভব নয় বলেই তেহরান মনে করে।

সূত্র: ফারস নিউজ