মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে ভীত ট্রাম্প, কারচুপির আশঙ্কা ডেমোক্র্যাটদের

জনপ্রিয়তায় বড় ধস এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় বেসামাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের জনসমর্থন মাত্র ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে ইরান সংঘাত এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে দিশেহারা মার্কিন নাগরিকরা। এদিকে, নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কায় পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা।  

চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। তবে তার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নেমেছে। 

ক্ষমতা গ্রহণের সময় যে জনপ্রিয়তা ছিল ৪৭ শতাংশ, মাত্র দেড় বছরের মাথায় তা ঠেকেছে তলানিতে। 

নতুন জরিপ বলছে, বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আস্থা রয়েছে মাত্র ৩৪ শতাংশ নাগরিকের। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরাইল সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ খোদ রিপাবলিকান সমর্থকরাও। দলের ৪১ শতাংশ মানুষই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট। যা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।

পরাজয়ের এই আতঙ্ক থেকেই ট্রাম্পের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ভোটে কারচুপির ক্ষেত্র তৈরি করছেন প্রেসিডেন্ট নিজেই। ডাকযোগে ভোট বাতিল কিংবা ভোটকেন্দ্রে অভিবাসন বাহিনী বা আইসিই এজেন্ট মোতায়েনের মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপের আশঙ্কা করছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।

কংগ্রেসম্যান জো মরেল জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ১৫০টি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের বিশেষ কমিটি। অশ্বেতাঙ্গ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখতে ফেডারেল ক্ষমতা অপব্যবহারের চেষ্টা হতে পারে বলেও সতর্কতা জারি করেছেন তারা।

যদিও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা এককভাবে অঙ্গরাজ্যগুলোর, তবে ট্রাম্পের জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির হুমকি নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করেছে। 

জরিপ বলছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনগণের আস্থা ৪৪ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ওপরই নির্ভর করছে ট্রাম্পের আগামী দিনের রাজনৈতিক ভাগ্য এবং সম্ভাব্য অভিশংসনের ঝুঁকি। যদিও কারচুপি করে ফল পাল্টানো ট্রাম্পের জন্য কঠিন হবে। তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের সন্দেহ তৈরি করতে তিনি সফল হয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।