হান্টাভাইরাসের কবলে পড়া বিলাসবহুল প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াস স্পেনের ক্যানারি দীপপুঞ্জে ভেড়ার অনুমতি পেয়েছে। প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এখন আটজন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
এতদিন মনে করা হচ্ছিল, ইঁদুর জাতীয় কোনো প্রাণী থেকেই পরোক্ষে ছড়িয়েছে এই সংক্রমণ। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবার দাবি করলো, ক্রুজ়ে সংক্রমণ হয়তো মানুষ থেকে মানুষের মধ্যেও ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে।
মার্চের শেষদিকে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এমভি হন্ডিয়াস নামের বিলাসবহুল প্রমোদতরী। আর্জেন্টিনা থেকে অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ জর্জিয়া হয়ে তরীটি কেপ ভার্দের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রা চলাকালেই জাহাজটিতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং মে মাসে তিনজন যাত্রীর মৃত্যুর খবর আসে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও বলছে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর জাতীয় প্রাণিবাহিত একটি ভাইরাস। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তবে তা বিরল।
সংস্থাটি আরও বলছে, সাধারণত ইঁদুরের বিষ্ঠা, লালা ও প্রস্রাব থেকে হান্টাভাইরাস পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
হু'র মহামারি প্রতিরোধ বিভাগের পরিচালক বলেছেন, ক্রুজের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবেই পরস্পরের খুব কাছাকাছি ছিলেন। তাই সতর্কতার অংশ হিসেবে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, এই ভাইরাস করোনা বা ফ্লু-এর মতো দ্রুত ছড়ায় না।
হান্টাভাইরাস আক্রান্তের প্রাথমিক লক্ষণ অনেকটা ফ্লুর মতো। প্রাথমিক পর্যায়ে তাই অনেকেই একে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ জ্বর বলে মনে করেন। পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, অল্পেতেই ক্লান্তি, বমি এই লক্ষণগুলি দেখা যায়। শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যাও হতে পারে, যাকে বলা হয় হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম। চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, এই রোগ বিরল হলেও অত্যন্ত মারাত্মক।
কোভিডের থেকেও হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে মৃত্যুহার বেশি এবং আরও চিন্তার ব্যপার হলো, কোভিডের মতো এরও নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই। ভ্যাকসিনও নেই। আক্রান্ত হলে অক্সিজেন সাপোর্টই ভরসা, মনে করছেন একাংশ।
এমভি হন্ডিয়াস ক্রুজ়ে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২০০-রও বেশি জন ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কড়া নজরদারি ও নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। আপাতত থামিয়ে রাখা হয়েছে জাহাজটিকে। তরীটির স্পেনে যাওয়ার অপেক্ষায়। তবে সেখানেও ভেড়ার অনুমতি নিয়ে দ্বিমত দেখা দিয়েছে।