পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এবার তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সরিয়ে দিলো। নতুন চেয়ারম্যান করা হলো হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায়কে। শুধু তা-ই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সাসপেন্ড করলো ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘তৃণমূল’।
মাসখানেক আগে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ঋতব্রতকে বহিষ্কার করেছিলো তৃণমূল। তা নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনও হয়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই ঋতব্রতর নেতৃত্বেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে কালীঘাট তৃণমূল। এবার মমতা-অভিষেককে সাসপেন্ড করলেন সেই ঋতব্রত! অর্থাৎ সম্পূর্ণ হলো একটা বৃত্ত। পালাবদলের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল।
সোমবার (২২ জুন) বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন ছিলো। সেই অধিবেশন শেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কেরা নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক। এছাড়াও, কলকাতার প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে।
সেই বৈঠকেই ‘তৃণমূলের’ ৩০ জনের কমিটি তৈরির কথা জানানো হয়। বিদ্রোহী বৈঠকে তৃণমূলের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার কথা।
কিন্তু ২০২২ সালের পর আর তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়নি। সেই কারণে প্রস্তাব এনে ভেঙে দেওয়া হলো আগে জাতীয় কর্মসমিতি। নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করলো ঋতব্রতদের ‘তৃণমূল’। সেই কর্মসমিতির চেয়ারম্যান মধ্য হাওড়ার বিধায়ক। এছাড়াও বেছে নেওয়া হয়েছে সহ-সভাপতি, কোষাধ্যাক্ষও।
একে একে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মমতার হাত ছেড়েছেন ৬৪ জনের বেশি বিধায়ক। ফলে পরিষদীয় দলের রাশ তার হাতছাড়া হয়েছে। এনডিএকে সমর্থন করতে তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ২০ জনই এনসিপিআই নামে একটি অচেনা দলের সঙ্গী হয়েছেন।
এদিকে ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় মমতার হাতছাড়া হয়েছে ছোট লালবাড়িও। ভাঙনের শুরুর দিকে যারা মমতার পাশে ছিলেন, এই মুহূর্তে তাদের অধিকাংশই নেই। মমতাকে আরও একা করে দিতে মরিয়া ঋত-পন্থীরা।
সোমবার পরিষদীয় দলের কায়দায় কাউন্সিলরদেরও নিজেদের শিবিরে টানতে নিউ টাউনের নামী পাঁচতারা হোটেলে আয়োজন করা হয় বিশেষ অধিবেশনের।
সেখানে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘আসল’ তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ফিরহাদ হাকিমকে। একই পদে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ। নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হলেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে?