বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনায় আবারও নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে পরিচালিত অভিযানে কুয়েতে মোতায়েন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারে অবস্থিত একটি স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা (প্রাথমিক সতর্কীকরণ কেন্দ্র) এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের বিপুল সংখ্যক আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ার অংশ। তবে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, বাহরাইন কিংবা কুয়েতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পাশাপাশি, স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও হামলার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, সর্বাধিনায়কের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশটির সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়তা ও পূর্ণ প্রস্তুতির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন আগ্রাসনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালিয়ে ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযানের এটি ছিল প্রথম ধাপ। তবে অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ কবে বা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি।