শেষ ষোলোর মহারণে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে বিদায় করে দিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। পুরো দল এখন উড়ছে চরম আত্মবিশ্বাসের ভেলায়। কিন্তু আগামী শনিবার শেষ আটের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে নরওয়েজিয়ান শিবিরে এক মধুর অথচ মারমার-কাটকাট ‘উইঙ্গার সংকট’ তৈরি হয়েছে!
দলের উইঙ্গার নির্বাচন নিয়ে ৫৮ বছর বয়সী মাস্টারমাইন্ড কোচ স্টালে সোলবাকেনকে এখন বড়সড় এক জুয়া খেলতে হবে, যা দলের চেনা সমীকরণকে ওলটপালট করে দিতে পারে।

চলমান বিশ্বকাপে নরওয়ের খেলা ৫টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিতেই শুরুর একাদশে দুই উইংয়ে খেলেছেন আন্তোনিও নুসা এবং আলেকজান্ডার সরলথ। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমার্ধে সেলেসাও রক্ষণভাগের সামনে এই দুজনকে বড্ড অসহায় দেখাচ্ছিল।
ফলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জুয়া খেলেন কোচ সোলবাকেন; নুসা ও সরলথকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান দুই তরুণ তুর্কি অস্কার বব এবং আন্দ্রেয়াস শিয়েলদারুপকে।
আর তাতেই পাশার দান পুরো উল্টে যায়! মাঠে নেমেই নরওয়ের আক্রমণভাগে আগুন ধরিয়ে দেন শিয়েলদারুপ, যার নিখুঁত পাস থেকেই গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড টুর্নামেন্টে নিজের সপ্তম গোলটি করে দলকে লিড এনে দেন। এটি ছিল এই আসরে শিয়েলদারুপের ৩ নম্বর অ্যাসিস্ট।
কোচের এই সাহসী সিদ্ধান্ত নরওয়েকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিলেও দলের ভেতরের পরিবেশ কিছুটা তপ্ত করে তুলেছে। স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে সাধারণত সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলা সরলথকে এই ম্যাচে রাইট-উইংয়ে খেলানো হয়েছিল। প্রথমার্ধেই তুলে নেওয়ায় কোচের ওপর প্রচণ্ড চটেছিলেন এই তারকা।

নিজের ক্ষোভ লুকাতে না পেরে সরলথ বলেন, তখন আমি প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলাম। পরে অবশ্য স্ট্যালের (কোচ) সাথে কথা বলেছি এবং এখন আমরা ভালো বন্ধুই আছি। তবে সত্যি বলতে, যখন আমাকে তুলে নেওয়া হলো, তখন এর কোনো মাথামুণ্ডু আমি খুঁজে পাইনি।
অন্যদিকে, লেফট-উইংয়ে খেলা আন্তোনিও নুসা অবশ্য সরলথের মতো অতটা চটেননি; বরং নিজের জায়গায় নামা বন্ধু শিয়েলদারুপ এবং পুরো দলের প্রশংসায় মেতেছেন। নুসা বলেন, ছেলেরা যেভাবে জ্বলে উঠেছে, তার প্রশংসা করতেই হবে। আমি সেরা ছন্দে না থাকার মানে এই নয় যে অন্য কেউ ভালো করতে পারবে না। দল জিতলেই আমি খুশি।
নরওয়ের খেলার মূল রণকৌশলই হলো উইঙ্গারদের গতি। সোলবাকেন চান তার উইঙ্গাররা দুই প্রান্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে সরাসরি শট নিক অথবা বাইরে থেকে আর্লিং হালান্ডের মাথার ওপর বল ফেলুক। হাই-প্রেসিং ফুটবলে ডিফেন্সের সময়েও উইঙ্গারদের নিচে নেমে ফুল-ব্যাকদের সাহায্য করতে হয়।

ব্রাজিলের বিপক্ষে রণকৌশল বদলানো নিয়ে ডিফেন্সিভ টোনে কোচ সোলবাকেন বলেন, ওরা (নুসা ও সরলথ) কেউ খারাপ খেলেনি, বিশেষ করে ডিফেন্সে দারুণ কাজ করেছে। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি এমন ছিল যে আমাদের ভিন্ন ঘরানার খেলোয়াড় দরকার ছিল।
ব্রাজিল বধের পর এখন পুরো নরওয়েতে দাবি উঠেছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালে সরলথ-নুসাকে বসিয়ে শুরু থেকেই যেন নামানো হয় বব আর শিয়েলদারুপকে। এখন দেখার বিষয়, সোলবাকেন তার পুরোনো বিশ্বস্ত সেনানিদের ওপরই ভরসা রাখেন, নাকি ইংল্যান্ডকে চমকে দিতে উইংয়ে বড় কোনো রদবদল করে নতুন জুয়া খেলেন!
