মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে পৌঁছেছে। তার মরদেহ বহনকারী উড়োজাহাজটি শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে খামেনির চূড়ান্ত বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে পবিত্র এই নগরীতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ তার জন্মশহর মাশহাদে পৌঁছানোর পর পুরো অঞ্চলে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। এসময় মরদেহ গ্রহণ ও নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বিমানবন্দরে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, খাদেম এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
![]()
ইরানি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মরদেহ বহনকারী উড়োজাহাজটি অবতরণের আগে ইরানের সামরিক যুদ্ধবিমানগুলো সেটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে। উড়োজাহাজটিতে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহও ছিল বলে জানানো হয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই মাশহাদের শোকযাত্রার নির্ধারিত সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নামে। ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ ও জিয়ারতকারী ইসলামী বিপ্লবের এই নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে পবিত্র নগরীতে সমবেত হয়েছেন।
এর আগে ইরানের রাজধানী তেহরান, ধর্মীয় নগরী কোম এবং ইরাকের কয়েকটি শহরে আয়াতুল্লাহ খামেনির স্মরণে শোকানুষ্ঠান ও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ও নেতারাও তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজারে আয়াতুল্লাহ খামেনির চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। এতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি অতিথি, স্থানীয় বাসিন্দা ও তার অনুসারীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাজাভি খোরাসান প্রদেশের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া কমিটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ইতিমধ্যে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে ৪,৭০০ জনেরও বেশি বিদেশি অতিথি ও প্রতিনিধি পবিত্র মাশহাদ নগরীতে এসে পৌঁছেছেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মাত্রা পায়।
সবশেষ গত ৪ জুলাই থেকে খামেনির স্মরণে আনুষ্ঠানিক শোক কর্মসূচি শুরু হয়। তেহরানে বড় পরিসরের বিদায়ী অনুষ্ঠান শেষে ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায়ও তাকে ঘিরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চূড়ান্ত দাফনের জন্য মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা অব্যাহত