জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরান বলছে, এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২১তম ধাপে তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ও পার্সটুডের বরাতে জানা যায়, হামলায় মার্কিন বাহিনীর বৃহৎ আকারের সি-১৭ সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজ এবং পি-৮ কমান্ড ও কন্ট্রোল (সামুদ্রিক নজরদারি) উড়োজাহাজকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে জর্ডানের অভ্যন্তর থেকে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির কয়েকজন ব্যক্তির সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময় পশ্চিম ইরানের আকাশে শত্রুপক্ষের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানায় আইআরজিসি। এছাড়া রোববার সন্ধ্যায় একই অঞ্চলে আরও একটি এমকিউ-৯ আগ্রাসী ড্রোন ধ্বংসের তথ্যও তুলে ধরা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই অভিযান নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আক্রমণের ঘটনা পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আকাবা বিমানবন্দরের এ ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও ইরানি সূত্রে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়ে গেছে।