ইরানকে নিয়ে চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছেন ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি!

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ এএম

ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক কৌশল অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, এবারও তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

এক মাস আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর, ট্রাম্প এখন এক চরম উভয় সংকটের মুখে পড়েছেন। একদিকে তিনি হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে চান, অন্যদিকে তেহরানকে নিজের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।


দুই পক্ষই এখন পর্যন্ত সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে চললেও, এই সংকট থেকে সহজে উত্তরণের কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। ফলে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এবং বিশ্ব আর্থিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। টানা ছয় দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর মধ্যে ইরান আভাস দিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে তারা ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার, গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেবে।

ক্রমবর্ধমান হতাশায় ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের সাথে ইরানের তেল ‘হাব’ খার্গ দ্বীপ দখলে স্থলসেনা পাঠানো, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা এবং 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' নামে পরিচিত মাটির গভীরের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা ফেলার মতো চরম বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন।


তবে ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় এই বিকল্পগুলোর অনেকগুলোই বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাড়ে চার মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু এবং সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হলেও ইরান তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েনি। আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন প্যানিকফ বলেন, প্রেসিডেন্টের মনে যা-ই থাকুক না কেন, এই নতুন হামলাগুলো ইরানিদের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে পারবে বলে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। বরং এটি তাদের অবস্থানকে আরও কঠোর করে তুলবে।


আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে (যার বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননে) এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী চুক্তিটিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেয়ার আলোচনা এখন স্থবির।

ট্রাম্প আশা করছেন, বোমা হামলার মাধ্যমে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এই সংঘাতের মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন ব্যাখ্যা। ইরান এই জলপথ ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ভূমিকা এবং শুল্ক আদায়ের অধিকার দাবি করছে, পক্ষান্তরে আমেরিকা ও তার উপসাগরীয় মিত্ররা সেখানে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চায়।


সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের নতুন করে হামলা চালানোকে হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। এর জবাবে আমেরিকা ইরানি বন্দরে আবারও নৌ-অবরোধ জারি করেছে এবং ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির যে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছিল, তাও বাতিল করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে।

পাল্টা জবাবে ইরানও হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের তেল সরবরাহ পথ বন্ধ করার হুমকি দিয়ে যুদ্ধকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরমধ্যেই, আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, জর্ডানের ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।


যদিও ওয়াশিংটনের কট্টর ইরান-বিরোধী থিংক ট্যাংক 'ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস'-এর প্রধান মার্ক ডুবোভিটজ দাবি করেছেন, ইরান এখন নিরুপায় হয়ে 'হরমুজ কার্ড' খেলছে এবং তাদের এই আচরণ বিশ্বকে বিকল্প পাইপলাইন ও নৌপথ তৈরিতে বাধ্য করবে।

তবে ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর ইরান গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, প্রশাসন যতই চাপ প্রয়োগ বা নতুন হুমকি দিক না কেন, ইরানের নেতৃত্ব সহজে আত্মসমর্পণ করবে না। ট্রাম্প যদি হামলার পরিধি বাড়ান, তবে তেহরানও সমানে সমানে জবাব দেবে। সব মিলিয়ে, কোনো যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট কোন কৌশল ছাড়া শুরু হওয়া এই সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনকে এক অন্তহীন চোরাবালির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

একাত্তর/এআরএস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র হুংকার ছাড়ার পাশাপাশি এক চরম সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকার কথা ব্যক্ত...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে 'জানফাদা' নামের এক বিশাল গণ-মোবিলাইজেশন কর্মসূচি জোরদার করেছে ইরান সরকার।...
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা ও হুমকিকে একপেশে, অন্যায্য এবং সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করেছে...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিরুদ্ধে চলমান ৪০ দিনের যুদ্ধে ব্যবহৃত ইরানি সামরিক সামগ্রীর মধ্যে একটি বিশেষ ড্রোন পশ্চিমা আকাশ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব স্কুল-কলেজ আগামীকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বন্ধ থাকবে। এদিন কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র হুংকার ছাড়ার পাশাপাশি এক চরম সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকার কথা ব্যক্ত...
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলাদাভাবে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে ও মালদ্বীপের ভাইস...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর