ইরানের অস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজব ও দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি। তিনি বলেন, ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের ৯০ শতাংশেরও বেশি এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) লেবাননের বৈরুতভিত্তিক স্যাটেলাইট সংবাদ টেলিভিশন চ্যানেল আল-মায়াদিনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে পার্সটুডে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে যে ধরনের তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই।

তিনি জানান, সামরিক অভিযানে ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের যে অংশ ব্যবহার করা হয়েছে, তার তুলনায় দেশটির মজুদের বড় একটি অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে।
ইরানের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। আল-মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকেন্দ্রগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য হারে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে যাচ্ছে।
সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে, দেশীয় উৎপাদন সেই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নাকদির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি সামনে আসছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনও হোয়াইট হাউসের সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল—ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করতে সফল হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত বিভিন্ন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সামরিক হামলা চালানো হলেও ইরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মগুলো পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, সামরিক অভিযানের পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এসব মূল্যায়নে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উঠে এসেছে, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘর্ষ শুধু ইরানের ওপরই চাপ তৈরি করেনি; এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও। বিশেষ করে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত উচ্চস্তরের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র—বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাড ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র—মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প নতুন করে উৎপাদন করে যে হারে মজুদ পূরণ করতে পারছে, তার চেয়ে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে এসব মূল্যায়ন। একই সঙ্গে, ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এর মধ্যেই আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদির দাবি, ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের ৯০ শতাংশেরও বেশি এখনো অক্ষত রয়েছে এবং দেশটির নিজস্ব উৎপাদনকেন্দ্রগুলো সামরিক ব্যবহারে ক্ষয় হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি পূরণে সক্ষম হচ্ছে।
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় হামলাকারীসহ নিহত দুই
পশ্চিম তীরে খাদ্যসহায়তা অর্ধেকে নামালো জাতিসংঘ