যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার আরও সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার প্রশাসনের লক্ষ্য মূলত এমন বিদেশি নাগরিকরা, যারা পর্যটনের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও প্রকৃতপক্ষে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে যান বলে দাবি করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ওভাল অফিসে এ নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে একটি তামাশায় পরিণত করেছে।
হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার জানান, নতুন আদেশের মাধ্যমে আরও কয়েকটি শ্রেণির মানুষের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের বাইরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সন্তান এবং বিদেশি সরকারের হয়ে তদবির বা প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের সন্তানও রয়েছে।
তার ভাষ্য, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে যেসব ব্যক্তি ভুলভাবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পেতেন, তাদের একটি বড় অংশ আর সেই সুবিধা পাবেন না।
এর আগে গত বছর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা অস্থায়ী ভিসায় থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নিম্ন আদালতগুলো সেই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করে। পরে জুনের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই উদ্যোগও বাতিল করে দেয়। আদালতের ওই রায়কে তখন খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাভুক্ত সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তানদের মতো কিছু ব্যতিক্রম আগে থেকেই আইনে রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রণীত ১৪তম সংশোধনী মূলত সাবেক দাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছিল। তাই এটি অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার এই নতুন উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আওতায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ব্যাপক হারে বহিষ্কার, অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচি বাতিল এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।