মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, ওয়াশিংটনের হুমকি, চাপ সৃষ্টি এবং আলোচনাকে ঘিরে দেওয়া বার্তাগুলো নতুন কিছু নয়; বরং এটি বহুবার ব্যবহৃত একটি ব্যর্থ ও প্রদর্শনমূলক কূটনীতির অংশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) আইআরআইবি নিউজ এজেন্সির বরাতে তেহরানভিত্তিক পার্সটুডে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং একই সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান কলিবফ।
তিনি লেখেন, "একটি বড় হামলা আসছে, অপেক্ষা করুন, তারা আলোচনা করতে চায়"— এই কথাগুলো একটি পুনরাবৃত্তিমূলক নাটকীয় কূটনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
কলিবফ বলেন, আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টি করতে হুমকিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, বাস্তবায়নহীন প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা—সব মিলিয়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যর্থ কৌশলে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতাকে মেনে নিন এবং আপনাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করুন। আমাদের আর কোনো নাটকের প্রয়োজন নেই।
কলিবফের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা একদিকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি এবং রাজনৈতিক চাপকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তবে এ ধরনের নীতিতে তেহরানকে নীতিগত অবস্থান থেকে সরানো সম্ভব হয়নি বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে উদ্বেগ থেকেই তারা চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি কতবার দিলেন ট্রাম্প?
বিদেশি সংবাদ ও গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরলো পাকিস্তান!