নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী রয়েছেন। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদেরও কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোতে কোশী নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, সরকারি স্থাপনা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
নেপালের পররাষ্ট্রসচিব শিষির খানাল জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় একটি ভূমিকম্পের পর তুষারধসের সৃষ্টি হয়। পরে ওই ধসের কারণে চীনের তিব্বত অঞ্চলে কয়েকটি হিমবাহ হ্রদ ধসে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখান থেকেই নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।
বন্যার তীব্রতায় নেপালের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সরকারি কার্যালয়ও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।
বিদেশিদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যারা তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার পথে ছিলেন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। চীনের তিব্বত অংশেও উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে।
এদিকে, আকস্মিক এই দুর্যোগের পর নদীর তীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে নেপাল সরকার।