নেপালে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: উদ্ধার ৯৫ মরদেহ, নিখোঁজ ৪০৩

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৫ পিএম

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীসহ শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ও কাদামাটি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বসতবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দেশটির পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর প্রায় ৪০৩ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। 

নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের অনেকেই তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বত অভিমুখে যাত্রা করা তীর্থযাত্রী ছিলেন।

প্রবল স্রোতে রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতি, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণও সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দুর্যোগের কারণ নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ের ওপর থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে নদীর প্রবাহে আকস্মিক পরিবর্তন তৈরি করে। এতে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটিকে ‘আইস-রক অ্যাভাল্যাঞ্চ’ বা বরফ-পাথরের ধসের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্যোগের পর দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্ধার, চিকিৎসা, খাবার ও আশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী দেশগুলোও নেপালের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।

এদিকে নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে গভীর শোক ও সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে নেপালের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা।

দুর্যোগে নিহতদের জন্য গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সুস্থতা কামনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংসস্তূপ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে আরও সময় লাগতে পারে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরবিএস
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ এবং প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে পৌঁছেছে। নেপাল পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বানের পানিতে কাদা ও...
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী রয়েছেন।
নেপালে তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি নদী ভোটে কোশীতে আকস্মিক ঢল ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
তিব্বত থেকে ধেয়ে আসা ক্ষিপ্রগতির কাদা-পানির তোড়ে তছনছ হয়ে গেছে উত্তর নেপালের রসুয়া জেলা। তিব্বতে উৎপত্তি হয়ে নেপালের ত্রিশূলী নদীতে মিশে যাওয়া ভোটেকোশী নদীর এই প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যায় বুধবার...
নেপালে সম্প্রতি আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ এবং প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে পৌঁছেছে। নেপাল পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বানের পানিতে কাদা ও...
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী রয়েছেন।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর