ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন ঠেকাতে ‘শত্রুদের জন্য দুঃস্বপ্ন’—এমন বার্তা দিয়ে শুরু হয়েছে বড় পরিসরের ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ মহড়া।
প্রেস টিভি জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন লাখ ১৩ হাজার মানুষ।
মহড়ায় অংশ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। এ সময় পেজেশকিয়ান বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
তেহরানে ইমাম হোসেইন স্কয়ার থেকে এনগেলাব স্কয়ার পর্যন্ত রাজধানীর কেন্দ্রীয় সড়কে জড়ো হচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে নিয়ে গঠিত ব্যাটালিয়নগুলোও এতে অংশ নিচ্ছে। রাজধানীজুড়ে এ কর্মসূচিতে বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মহড়ায় ইরানের বিভিন্ন ধরনের ড্রোনও প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত পথে নারীদের পৃথক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নারী-পুরুষের পাশাপাশি তরুণ, কিশোর, শিশু ও বয়স্করাও এতে অংশ নেন।
মহড়ায় ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দেখা যায় হলুদ রঙের ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ লেখা পতাকা।
এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের হাতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ নিহত কমান্ডার ও সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহতদের ছবি দেখা যায়। নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর সড়ক।
আয়োজকদের ভাষ্য, টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণের শক্তি প্রদর্শন এবং দেশের শত্রুদের সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করাই মহড়ার উদ্দেশ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন লেনজুড়ে কুচকাওয়াজ হবে। এ কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মসূচি চলতে পারে।
তেহরানে মহড়ায় বক্তব্য দেন আইআরজিসির আধাসামরিক স্বেচ্ছাসেবী শাখা বাসিজের প্রধান হোসেইন তাইয়েব। তিনি ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ কর্মসূচিকে বিশ্বের যুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণঅভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাইয়েবের ভাষ্য, জনগণের প্রতিরোধ দেশের কর্মকর্তাদের জন্য দিকনির্দেশনা এবং শত্রুকে পরাজিত করার একটি শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তার দাবি, ইরানের কোটি কোটি মানুষ আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত—শত্রুরা তা দেখলে পরাজয় মেনে নেবে। আত্মত্যাগে প্রস্তুত এসব মানুষই এখন দেশের শত্রুদের জন্য ‘দুঃস্বপ্ন’ এবং জাতীয় প্রতিরোধ ও দেশের অগ্রগতির প্রতীক।
বর্তমান ধাপে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিরক্ষা ব্যাটালিয়নে যুক্ত করা হচ্ছে। তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্থল, আকাশ ও নৌক্ষেত্রে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তাইয়েব। গ্রেটার তেহরানে সামরিক প্রশিক্ষণসহ এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে; পরে দেশের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় তা আয়োজন করা হবে।
রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানান, কয়েক ধাপে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ কর্মসূচিতে নিবন্ধন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা যুদ্ধ প্রচেষ্টা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার আগ্রহ জানিয়েছেন।
হাসানজাদেহ বলেন, এ মহড়া আইআরজিসি, পুলিশ এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয়ের আরেকটি উদাহরণ। তার দাবি, কর্মসূচিতে তিন কোটি ১৫ লাখের বেশি ইরানি নিবন্ধন করেছেন। এসব নিবন্ধনকারী মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে দেশ রক্ষার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।