দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং শুক্রবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দেশকে সামরিক সংকটে ফেলতে পারে, এমন কোনো সামরিক সম্পদ তিনি সেখানে মোতায়েন করবেন না। তবে, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌযান ও জ্বালানি সরবরাহের সুরক্ষায় দেশটি তাদের ভূমিকা বাড়াবে কি না, তা সিউল পর্যালোচনা করে দেখছে।
প্রেসিডেন্ট লি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোনো যুদ্ধ জড়িয়ে পড়া বা যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য সৈন্য মোতায়েন করা হবে না। আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এটি বলছি। তবে তিনি যোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজ, অপরিশোধিত জ্বালানি পরিবহন এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্য দেশের মতো যতটুকু ন্যূনতম পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা সিউলকে করতেই হবে।

বর্তমানে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা বিরোধী অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানালেও সিউল তা এড়িয়ে চলেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে কোরিয়ান সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা চললেও দেশটির জনগণের মধ্যে এটি ব্যাপক অজনপ্রিয়। সংঘাতের বিষয়ে পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিউলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এ বছরের গ্রীষ্মে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে দেন, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে কিছুটা উদ্বিগ্ন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সিউলের সামরিক ও উৎপাদন খাতের ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট লি জানান, বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করাই আলোচনার প্রধান বাধা। তবে উভয় দেশই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে আগামী মাসগুলোতে নতুন কোনো শীর্ষ বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন লি। তিনি বলেন, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনা চান এবং সিউলও এতে সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। যদিও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ট্রাম্পের এই আলোচনার আহ্বানে এখনও সাড়া দেয়নি।

দ্বিতীয় মেয়াদের সম্ভাবনা নাকচ ও রাজধানী বিকেন্দ্রীকরণ: জনপ্রিয়তার হার কমে আসার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট লি কোরিয়ান জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে সংবিধানে নিজের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই উল্লেখ করে তিনি ঘোষণা দেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০৩০ সালেই তাঁর নির্ধারিত পাঁচ বছরের একক মেয়াদ শেষ হবে।
এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ কমাতে সিউলকে 'অর্থনৈতিক রাজধানী' এবং সেজংকে 'রাজনৈতিক রাজধানী' হিসেবে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
