ড্রোন থেকে এফ-১৫, ধ্বংস হয়েছে অ্যাপাচিও—ইয়েমেনের আকাশে বিপাকে সৌদি

অত্যাধুনিক অস্ত্রের ভাণ্ডার নিয়েও ইয়েমেনের আকাশে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে সৌদি আরব। একের পর এক ড্রোন ও যুদ্ধবিমান হারিয়ে আকাশপথে বড় ধাক্কা খেয়েছে রিয়াদ। উন্নত পশ্চিমা অস্ত্রে সজ্জিত সৌদি বাহিনীও হুথিদের পাল্টা আক্রমণের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।

তেহরানভিত্তিক পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরব অন্তত ১৭টি সিএইচ-৪, ৯টি উইং লং-২, ৬টি কারায়েল, ৩টি সিকার-৪০০, একটি আকিনজি ও একটি এএমটি লুনা এক্স-২০০০ ড্রোন হারিয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিমানের মধ্যে চারটি টর্নেডো, চারটি এফ-১৫ ও একটি টাইফুন ক্ষতিগ্রস্ত বা ভূপাতিত হয়েছে।

এছাড়া হেলিকপ্টারের মধ্যে রয়েছে ১১টি অ্যাপাচি, একটি ব্ল্যাক হক ও একটি এসএ-৩৬৫। এসব ক্ষয়ক্ষতির কিছু দুর্ঘটনা ও কারিগরি ত্রুটির কারণেও হয়েছে।

ইয়েমেনের জওফ, বাইদা ও তাইজ এলাকায় সৌদি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় চারটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকেও সৌদি আকাশ অভিযানের দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সৌদি বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর চারটি হারানো বড় সামরিক ও প্রতীকী ক্ষতি। একইভাবে ১১টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার হারানোও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি অ্যাপাচির আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার হিসেবে ধরলে শুধু এসব হেলিকপ্টারেই ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার।

ইয়েমেন যুদ্ধ সৌদি অর্থনীতিতেও বড় চাপ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর দেশটি সামরিক খাতে ৮৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে সৌদি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ২৩ শতাংশ কমেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহকে পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেছিল। কিন্তু প্রায় ১১ বছর পরও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পার্সটুডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের এই ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়েছে, অত্যাধুনিক প্রচলিত সামরিক শক্তিও অসম যুদ্ধ, স্থানীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নতুন যুদ্ধকৌশলের মুখে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান ও যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।