সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশসীমায় হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ‘সফলভাবে’ প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে এই আকাশযুদ্ধের ঠিক পরপরই রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’র ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোরের দরজা-জানালার কাঁচ ও ফিটিংস উড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বাণিজ্য বিষয়ক পোর্টাল মানি কট্রোলের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার সৌদি সিভিল ডিফেন্স সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে প্রাথমিক সতর্কবার্তা জারির পরপরই রিয়াদজুড়ে বেশ কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বিপদ কেটে গেছে বলে ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আরামকো ভবনটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খুবই সীমিত এবং এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এএফপির কাছে দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রিয়াদের অন্যতম বহুতল ভবন আরামকো টাওয়ারের বিভিন্ন ফ্লোরের দরজা ও জানালার কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।
এএফপিকে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রিয়াদের প্রাণকেন্দ্রের বাণিজ্যিক এলাকাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, আকাশসীমায় প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ বা ডেব্রিস সরাসরি টাওয়ারে এসে আঘাত হানে। অন্য দুজন প্রত্যক্ষদর্শী ভবনটির কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনে পুনরায় পুরোদমে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের বিমানবন্দর, বন্দর এবং কৌশলগত তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র করে তুলেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
