‘লাইট-গেটেড আয়ন চ্যানেল’ ও ‘অপটোজেনেটিক্স’ বিষয়ক যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসারথ এবং দুই জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান ও গেওর্গ নাগেল। খবর রয়টার্সের।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি।
পুরস্কারজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসারথের বয়স ৫৪ বছর এবং দুই জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান ও গেওর্গ নাগেলের বয়স যথাক্রমে ৭১ ও ৭৩ বছর। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী তিন বিজ্ঞানী সনদ ও পদকের পাশাপাশি মোট এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) পাবেন; নিয়ম অনুযায়ী যৌথ বিজয়ী হওয়ায় এই অর্থ তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কৃত অপটোজেনেটিক্স পদ্ধতির মাধ্যমে জীবন্ত মস্তিষ্কের আলাদা আলাদা স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ আলো ব্যবহারের মাধ্যমে চালু বা বন্ধ করা সম্ভব হয়। মানব মস্তিষ্কের জটিল রহস্য উন্মোচনে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণাগারে এই পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ঐতিহ্যগতভাবেই নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সূচনা ঘটে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্যাটাগরি দিয়ে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পদার্থবিজ্ঞান, পরদিন বুধবার (৭ অক্টোবর) রসায়ন এবং পরবর্তীতে সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
সুইডিশ উদ্ভাবক ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল অনুযায়ী চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তি—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘রিক্সব্যাংক’ অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করে।
ইতিহাস জুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল গত শতাব্দীর অত্যন্ত প্রভাবশালী কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে ১৯৩০ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার এবং ১৯৪৫ সালে স্যার অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিংয়ের পেনিসিলিন আবিষ্কার। এর আগে ২০২৫ সালে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সুরক্ষামূলক গবেষণা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী মেরি ব্রুনকো ও ফ্রেড র্যামসডেল এবং জাপানের শিমোন সাকাগুচি।
আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। তবে প্রথা অনুযায়ী কেবল শান্তিতে নোবেল পুরস্কারটি নরওয়ের অসলোতে দেওয়া হবে।